আজ বৃহস্পতিবার 10:05 pm21 September 2017    ৬ আশ্বিন ১৪২৪    29 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

এক বৃটিশ নারীর তুলনাহীন বাংলাদেশ প্রেম

সেলিনা জাহান প্রিয়া

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৫:৫৫ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৬:০১ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার

সেলিনা জাহান প্রিয়া

সেলিনা জাহান প্রিয়া

বৃটিশ নাগরিক মিস লুসি হল্ট। বাংলাদেশে তার জন্ম নয়, নেই রক্তের কোন বন্ধনও। তবু, অদ্ভুত এক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের সাথেই। ইংল্যান্ডের সেন্ট হেলেন শহরে মিস লুসি হল্টের জন্ম ১৯৩০ সালে। মাত্র ৩০ বছর বয়সে বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনের হাসপাতালে আসেন সেবায়েত হিসেবে। কথা ছিলো দু বছর বাদে দেশে ফেরার। এখানকার প্রকৃতি, মানুষ আর মানুষের ভালোবাসা আবিষ্ট করে তাকে। তাই তো গত ৫৬ বছর ধরে লাল-সবুজের দেশে মাখামাখি বৃটিশ নাগরিক লুসি হল্টের। হৃদপিণ্ডজুড়ে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। প্রায় ৬০ বছর ধরে আছেন এদেশে। পূর্বসূরী বৃটিশ শাসকদের শাসনেও রয়েছে তার চরম ক্ষোভ, হয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের নিভৃতচারী নিরব স্বাক্ষী।

 

 

 


একাত্তরের স্মৃতি রয়েছে লুসির চোখজুড়ে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে বেশ কয়েক মাস আয়া হয়ে যশোরের ফাতেমা হাসপাতালে আহতদের সেবা দেওয়া যেনো তার অনন্য দৃষ্টান্ত। লুসি বলেন, “কোন স্বীকৃতি বা কিছু পাওয়ার আশায় নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় হাসপাতালে আমি বেসামরিকদের সেবা দিয়েছিলাম মানবিক দিক চিন্তা করেই।”

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ssss

 

 

 

 

 

 


আহতদের সেবা দেওয়ার অবদান হিসেবে সনদ নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে এক কথায় বলেন, ‘না’ আর, নিজ দেশের চেয়ে বিদেশীদের বেশি প্রশংসা করায় ক্ষোভ রয়েছে বাংলাদেশীদের প্রতিও। তিনি বলেন, “বাংলাদেশীরা নিজেরা নিজেদের পেছনে লেগে থাকে। নিজেরা নিজেদের প্রশংসা করে না। এটা আমাকে কষ্ট দেয়। আমি চাই একে অপরকে ভালোবাসবে, প্রশংসা করবে।”

 

 

লুসি দ্বৈত নাগরিকত্ব চেয়েছিলেন, পাননি। শুধু বাংলাদেশী নাগরিকত্ব নিবেন তাও সাহস পাচ্ছে না। কারণ বৃটিশ নাগরিক হওয়াতে তিনি ভাতা পান সেখান থেকে। সেটি বন্ধ হবে যদি তিনি সেখানকার নাগরিকত্ব ছেড়ে দেন।

 

 

 


আর্থিক নিঃস্ব এ মানুষটির সরকারের কাছে আহ্বান, তাকে দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রদানসহ বছরে ভিসা রিনিউয়ের ৩৮ হাজার টাকা মওকুফের। বলেন, “আমি অনেক বছর পর্যন্ত এদেশে আছি। বাংলাদেশকে ভালোবাসি। সরকার চাইলেই বছরের ঐ ৩৮ হাজার টাকা কনসিডার করতে পারে। আমি খুব কৃতজ্ঞ থাকবো যদি টাকাটা কমানো হয়। মাসিক পেনশনে যে টাকা পাই তাতে খুব কষ্ট হয় আমার। আমার কাছে ফিক্সড কোন টাকা নাই।”

 

 

 


লেখকের সাথে এসব কথা হয় মিশনের হোস্টেল পুকুরের সিঁড়িতে বসে। লুসি কথা শেষ করে নিয়ে যান মিশনের ভেতরের কবরস্থানে। সেখানে নিজ হাতে দেখিয়ে বলেন “আমি এই এইখানে মারা যাবো। আমার মৃত্যু হলে আমাকে যেন এইখানে কবর দেওয়া হয়।”

 


এটাই হয়তো তাঁর ভালোবাসা। লুসি ভালোবেসেছেন বাংলাদেশ, ভালোবেসেছেন বরিশাল আর তাই জন্ম না নিলেও, শেষ নিঃশ্বাস ছাড়তে চান বরিশাল শহরেই। বাংলা মাটির সোঁদা গন্ধেই ঘুমোতে চান চিরদিনের জন্য। সেজন্য লুসি ঠিক করে রেখেছেন মাটির সেই কবরও।

 


মানুষটা ভীনদেশী হলেও, মন ও মননে একটু বেশিই বাঙালি। এ বিদেশিনী মরতেও চান বাংলাদেশে, বরিশালে।

 

 

 

রাষ্ট্র কি পূরণ করবে তাঁর শেষ ইচ্ছা?

 


মাত্র ৩৮ হাজার !! টাকার অংকটা খুব বড় ??