Total Bangla Logo
For bangla আজ বৃহস্পতিবার 12:39 am
27 July 2017    ১১ শ্রাবণ ১৪২৪    02 ذو القعدة 1438

একটি উদার চিন্তার ঐতিহাসিক চিঠির নির্মোহ মূল্যায়ন

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:১৭ এএম, ১৪ জুন ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০১:০০ এএম, ১৫ জুন ২০১৭ বৃহস্পতিবার

আল্লামা আহমাদ শফি দা.বা.

আল্লামা আহমাদ শফি দা.বা.

হাসপাতাল থেকে আল্লামা আহমদ শফি দা.বা. এর লেখা সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে যেসব প্রসংশা করেছেন তা কওমি আলেম সমাজ ও ইসলামপ্রিয় তরুনদের জন্য উদার মানসিকতার অনেক কিছু শেখার আছে।স্বাধীনতার পরবর্তি ৪৬বছরে বাংলাদেশের আলেমরা আওমীলীগ সরকার বা কোন প্রধানমন্ত্রীকে এতোটা উদারতা কখনো প্রকাশ করে প্রসংশা করেন নি, বৃহত্তর স্বার্থে এমন উদার চিন্তা যা ঐতিহাসিক ঘটনা বটে।

 

স্বীকৃতি বিষয়ের পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এদেশের সকল আলেমদের মাথার তাজ ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা আহমদ শফি, যা বলেছেন তা থেকে আমরা অনেক কিছু আাগামি দিনের উদারতার পাথেয় নিতে পারি। হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতুল কওমিয়া বাংলাদেশ ও স্বীকৃতি নিয়ে যেসব কথা বলেছেন তা আপনারা মিডিয়াতে পড়েছেন। আমি চিঠির ভেতরে আল্লামা আহমদ শফি দা.বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পিতা বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শহীদ শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বীনী খেদমতের মূল্যায়ন, শহীদ পরিবার বর্গের জন্য প্রাণখোলা দোয়া, প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রার্থনা ও কল্যাণ কামনা, স্বীকৃতির ঘোষনাকে যুগান্তকারী ঐতিহাসিক ও জীবনের সোনালী অধ্যায় উল্লেখ করে তিনি নিজের জীবনের শেষ ইচ্ছা তাঁর কাছে ব্যক্ত করেন।

 

দেখার বিষয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আল্লামা আহমদ শফির এই উদার মূল্যায়ন ও জীবনের শেষ ইচ্ছাকে কিভাবে পূরন করে মূল্যায়ন করে কতোটা বাস্তবায়ন ও কার্যকর করেন ।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে শতভাগ সে আশা রেখেই চিঠির সেই চুম্বকায়িত অংশ পাঠকের জন্য নিম্নে তুলে ধরছি।

 

স্বীকৃতির ঘোষনা প্রধানমন্ত্রীর জন্য সদকায়ে জারিয়া হবে
আল্লামা শাহ আহমদ শফী প্রথমেই কওমি স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ও দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি) এর সমমান প্রদান করা হল।’ আপনার এ যুগান্তকারী ঘোষণা দ্বারা একটি শুভ ইতিহাস ও সদকায়ে জারিয়া সূচিত হল। "

 

পরিবারের শহীদের জন্য মাগফিরাত কামনা
চিঠিতে আল্লামা আহমদ শফি দা.বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শহীদ পরিবার বর্গের জন্য দোয়া করেন "আমরা দুয়া করি, মহান আল্লাহ তায়ালা আপনার সদকায়ে জারিয়া কবুল করুনএবং আপনার পিতা মরহুম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার পরিজনসহ ১৯৭৫ সালে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণকারী সকলের আত্মার মাগফিরাত করুন।"

 

বঙ্গবন্ধুকে শহীদ উল্লেখ করে সম্মান প্রধান
চিঠিতে সরকারের ও বঙ্গব ইসলামি কার্যক্রমের দিকগুলো তুলে ধরে লেখা হয়, "আপনার পিতা মরহুম শহীদ শেখ মুজিবুর রহমান তাবলীগ জামাতের মারকায প্রতিষ্ঠা জন্য কাকরাইল মসজিদের জায়গাটি বরাদ্ধ দিয়েছিলেন।"

 

শহীদ বঙ্গবন্ধুর দ্বীনী খেদমতের স্বীকৃতি ও প্রসংশা
চিঠিতে শহীদ বঙ্গবন্ধুর দ্বীনী খেদমতের স্বীকৃতি ও প্রসংশা করে আল্লামা আনমদ শফি লিখেছেন,"এর উসিলায় বর্তমানে সারা বিশ্বের সবচে বড় ইজতেমা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যা বাংলাদেশের জন্য বিরাট গৌরবের বিষয়। এমনিভাবে তিনি জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশ প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশের মুসলিমগণ ইসলামের শিক্ষা ও বহুমুখী সুযোগ-সুবিধা লাভ করে থাকেন। বিশ্ব ইজতেমার জন্য টঙ্গীতে প্রায় একশ ষাট একর জমি দিয়েছেন। যা কেবলমাত্র তাবলীগ জামাতের লোকজন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এতে সরকারের সহযোাগিতা থাকে, কিন্তু সরকারের কোনো প্রকার অংশীদারিত্ব থাকে না। বর্তমানে বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে সমগ্র বিশ্ব থেকে বহু মুসলিম বাংলাদেশে আগমন করেন। এটাও বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য গৌরবের বিষয়।"

 

আপনি কওমি মাদরাসার একজন অভিবাবক
চিঠিতে আল্লামা আহমদ শফি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে লিখেন, "আপনি দেশ, জাতি ও কওমি মাদরাসার একজন অভিভাবক। কওমি মাদরাসার সনদের মান প্রদান একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সনদের মান প্রদান আপনার জীবন ইতহাসের একটি সোনালী অধ্যায়।"

 

জীবনের মঙ্গল বয়ে আনবে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য পরকালীন মঙ্গলের দোয়া ছাড়াও চিঠিতে দুনিয়ার জীবনে এই কওমি স্বীকৃতির ঘোষনা মঙ্গল বয়ে আনবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন এই মহান বুর্যুগ আলেমেদ্বীন লিখেন " এটা অবশ্যই আপনার পার্থিব জীবন ও পরকারীন জীবনের মঙ্গল বয়ে আনবে ইনশাল্লাহ।"

 

জীবনের শেষ ইচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে
চিঠিতে কওমি সনদের আইনগত ভিত্তি জীবনের সর্বশেষ কামনা বলে উল্লেখ করেন আল্লামা শাহ আমদ শফী। "আমি আমার বয়সের শেষপ্রান্তে উপনীত। আর কত দিন বেঁচে থাকব তার একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। কওমি মাদরাসার সনদের মানের আইনগত ভিত্তি রচিত হোক, এটাই আমার জীবনের সর্বশেষ কামনা। আপনার কাছে আমার সবিনয় অনুরোধ, কালবিলম্ব না করে সনদের মান আপনার মন্ত্রীসভায় পাস করতঃ আগামী সংসদ অধিবেশনে তা পাস করিয়ে নেবেন।

 

আমি এবং আমরা দুআ করি, মহান আল্লাহ আপনার ও আপনার বংশধরকে ইহকাল এবং পরকালে মঙ্গল দান করুন।"

উল্লেখ্য, এই চিঠিসহ গত ১১ জুন বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি আল্লামা আশরাফ আলীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। সঙ্গে অন্যদের মধ্যে ছিলেন, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, আল্লামা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আবদুল বাছেত বরকতপুরী, মুফতি নূরুল আমিন, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা নূরুল ইসলামও মাওলানা উসামা আমিন।

 

নোট : লেখাটিতে লেখকের বানান হুবহু রাখা হয়েছে।