আজ বুধবার 12:54 am20 September 2017    ৪ আশ্বিন ১৪২৪    27 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

এই খোলা চিঠি পড়ে বাঘের মতো গর্জে উঠুন

হাসানুল কাদির

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ১১:২৮ এএম, ১৮ জুন ২০১৭ রবিবার

হাসানুল কাদির : প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়ন

হাসানুল কাদির : প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়ন

বাংলাদেশের সংবিধান, আমরা চাই আল-কুরআন
শক্ত হাতে শপথ নিন, বাংলাদেশকে বদলে দিন


প্রিয় দেশবাসী,
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
অত্যন্ত দুঃখ-ভারাক্রান্ত অন্তরে আপনাদের জানাতে বাধ্য হচ্ছি, প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ এখন আগ্রাসনবাদী ইনডিয়ার হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই আওয়ামী লীগই বাংলাদেশকে ইনডিয়ার হাতের পুতুল বানিয়ে দিয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ অন্য দলগুলোও তাদের করণীয় ভূমিকা পালনে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বলতে গেলে এখন কিছুই নেই।


প্রিয় তওহিদি জনতা,
একদিকে ইনডিয়ার আগ্রাসন, অন্যদিকে যমুনা, বসুন্ধরা ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিশ্ব সন্ত্রাসী ইসরায়েল তথা ইহুদিরা বাংলাদেশ থেকে পবিত্র ইসলামের নাম ও নিশানা মুছে ফেলতে সবরকমের ষড়যন্ত্র পাকা-পোক্ত করেছে। বিশ্বজুড়ে ইসলাম ও মুসলমানদের এখন করুণ দশা। যে গরিবি হালতে পবিত্র ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই একই অবস্থায় আজ ইসলাম ও মুসলমান। সারা বিশ্বে প্রায় ২ শ কোটি মুসলমান থাকলেও কেউ আজ ইসলামের নামে কোনো তৎপরতা পরিচালনা করলেই তাকে দেশি-বিদেশি মোড়লেরা জঙ্গি-সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিচ্ছে। এ অবস্থায় ইসলামের পরিচয় নিয়ে এখন বেঁচে থাকাই সারা বিশ্বে বিশেষ করে বাংলাদেশেও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমাদের যাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র ঈমান আছে, ইসলামের পরিচয়ে যারা বেঁচে থাকতে চাই, তাদের গর্জে ওঠার সময় হয়েছে। যার হাতে যা কিছু আছে, তাই নিয়ে সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে। বেঁচে থাকতে হলে আমরা সিংহের মতো বেঁচে থাকবো, মরতে হলে আমরা শহিদের মর্যাদা নিয়ে মরবো-এই শপথে বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়নের যাত্রা শুরু হয়েছে।


প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আমি জানি, আমার যোগ্যতা নেই। আমি একজন আলেম, পেশাদার সাংবাদিক। আপনাদেরই ভাই। আমি আপনাদের সকলের সবধরনের সহযোগিতা চাচ্ছি। বাংলাদেশের আগামী পারলামেন্ট ইলেকশনে ৩শ আসনেই আমরা ইলেকশন করতে চাই, দেশবাসীর ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলে বাংলাদেশকে সত্যিকার সোনার বাংলায় পরিণত করার অঙ্গীকার করছি। এদেশের প্রতিটি মানুষের মুখে আমরা আক্ষরিক অর্থে হাসি ফোটাবো। আগামী জানুয়ারি ২০১৮-এ ইনশাআল্লাহ আমরা ভিশন ২০১৮ ঘোষণা করবো। বর্তমানে একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক দল হিসেবে নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এই মুহূর্তে আমরা আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল স্তরের-মতের মানুষকে অনুরোধ করছি, আপনারা আমাদের দলে যোগ দিন। সারাদেশে ইসলামিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন করুন। সত্যিকার অর্থে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতা-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা এবং অপার সম্ভাবনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। বাংলাদেশের সামনে এখন শুধুই সোনালি সম্ভাবনা...।


প্রিয় বোন ও ভাইয়েরা,
আমরা বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত করতে চাই। অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল বিশ্বনিয়ন্ত্রণ করতে পারলে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ কেন বিশ্বনিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না? বাঙালি কী পারে না? আমরা বিশ্বাস করি, বাঙালি সব পারে। মজলুম বাঙালির প্রতিটি আন্দোলনে-ইতিহাসে আল্লাহর নানামুখী মদদ ছিল। বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়ন নিয়ে আমাদের বহুমুখী পথচলায় অবশ্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সহযোগিতা করবেন। আমরা ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি স্বাধীনচেতা মানুষের কাছে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সহযোগিতা চাই। আমরা আগ্রাসনবাদী ইনডিয়ার বিরুদ্ধে নতুন মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিচ্ছি। আশা করি, বিশ্বসম্প্রদায়ও আমাদের ডাকে, মজলুম বাঙালির পক্ষে দাঁড়াবে।


প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আমরা সরকারের কাছে দাবি করছি, অবিলম্বে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও যুদ্ধাপরাধের মিথ্যা মামলায় আটক এটিএম আজহারুল ইসলামকে নিঃশর্ত মুক্তি দিন। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম-খুন-হত্যা বন্ধ করুন। মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার-হয়রানি-জুলুম বন্ধ করুন। আমরা দাবি করছি, নিরীহ নিরপরাধ বিচারবহির্ভূত আটক সকল আসামীকেই দ্রুত মুক্তি দেওয়া হোক। গোটা বাংলাদেশ এখন ইনডিয়া এবং ইসরায়েলের একটি কারাগারে পরিণত হয়েছে, তাই ব্যাপক অর্থে বাংলাদেশের সকল কারাবন্দিরই আমরা মুক্তি চাই। একই সঙ্গে ইসলাম ও মুসলমানদের দুশমন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত ও কুলাঙ্গার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক বাদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত সকল লেখক-সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মী-গবেষক-বুদ্ধিজীবী-রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীসহ সবাইকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাচ্ছি।


প্রিয় দেশবাসী,
আমরা বাংলাদেশে ইহুদিদের এদেশীয় বাণিজ্যিক এজেন্ট বসুন্ধরা, যমুনা এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ সরকারি প্রশাসকদের হাতে তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। অভিশপ্ত কাদিয়ানিদের অবিলম্বে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে বরখাস্ত করতে হবে। সুপৃম কোর্টের লিলি চত্বরে পবিত্র কুরআনের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে। সারাদেশের সকল মূর্তি সরাতে হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এখন কাদিয়ানিদের হাতে জিম্মি। এই পবিত্র মসজিদে কিশোরগঞ্জের শহিদি মসজিদের খতিব আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ এবং মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকি আন নদভীকে খতিব এবং নতুন কাউকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিতে সরকারের কাছে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।


প্রিয় তওহিদি জনতা,
আমি একজন কওমি মাদরাসাপড়ুয়া আলেম। বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার যেভাবে ষড়যন্ত্র করেছিল, একই ষড়যন্ত্রের খেলায় মেতে উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির সরকারও। এই চারটি দলের হাতে ইসলাম, মুসলমান ও কওমি মাদরাসাগুলো নিরাপদ নয়। কওমি মাদরাসাগুলো নিয়ে সবধরনের খেলা বন্ধ করতে অবিলম্বে বেফাক (বেফাকুল মাদারিসিলি আরাবিয়া বাংলাদেশ)-এর অধীনে এক সিস্টেমে সারাদেশের সবকটি কওমি মাদরাসার সনদকে প্রকৃত অর্থে সরকারি মান দিতে হবে। প্রতিটি মসজিদের খতিব-ইমাম-মুয়াজ্জিনকে সরকারি তরফে বেতন-ভাতা দিতে হবে।


প্রিয় আওয়ামী লীগের বন্ধুরা,
আপনাদের কাছে প্রশ্ন করছি, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন কি ইনডিয়ার হাতে পরাধীন নয়? যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তানের কবল থেকে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, সেই আওয়ামী লীগ কি তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পেরেছে? গোটা বাংলাদেশের সর্বত্র কেন এখন ইনডিয়ান রাজত্ব? গর্জে ওঠুন বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা।


প্রিয় বিএনপির বন্ধুরা,
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতেগড়া বিএনপি বহুদিন ধরে অভিশপ্ত জামায়াতে ইসলামীর গ্রাসে পরিণত হয়েছে। এ কারণে বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে। এরপরও খালেদা-তারেকের ঘুম ভাঙছে না। বিএনপি এখন দুই ভাগে বিভক্ত। ছোট একটি পক্ষ আওয়ামী লীগের এজেন্ট এবং বড় পক্ষটি জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। এ অবস্থায় দেশে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বাদ দিয়ে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার লক্ষ্যে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, শহীদ জিয়ার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা অবিলম্বে তুলে নিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিএনপিকে রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে এই শর্তে, যদি খালেদা-তারেকরা জামায়াতের সবরকম সঙ্গ ত্যাগ করে।
আমাদের এসব দাবি আদায়ে আগামী ২২ ডিসেম্বর ২০১৭ শুক্রবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে আপনারা দলে দলে যোগ দিন। বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার শপথ নিন। আল্লাহ আপনাদের আমাদের সবাইকে শান্তি ও সুখে রাখুন। নাসরুম মিনাল্লাহি ওয়া ফাতহুন কারিব। জয় আমাদের আসবেই। ওয়া মা আলাইনা ইল্লাল বালাগ-আমার ডাক আমি দিয়ে দিলাম। আপনাদের যার যা আছে, তাই নিয়ে সাড়া দেওয়ার সময় এসেছে। আল্লাহ তুমিই মেহেরবান।

হাসানুল কাদির
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়ন
বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়ন-এর সেন্ট্রাল প্রচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত
যোগাযোগ : ০১৯৮৯ ৯০১০৩৬, ০১৭১৬ ৪৫৯২৩২

বিশেষ দ্রষ্টব্য : এই খোলা চিঠি নিজে পড়–ন। যারা পড়তে জানে না, তাদেরও পড়ে শোনান। বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়নের অঙ্গ, সহযোগী ও সমর্থক সংগঠন ছাত্রফ্রন্ট, যুবফ্রন্ট, কৃষকফ্রন্ট, শ্রমিকফ্রন্ট, স্বেচ্ছাসেবকফ্রন্ট, মহিলাফ্রন্ট, মুক্তিযোদ্ধাফ্রন্ট, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মফ্রন্ট, তাঁতীফ্রন্ট, সাংস্কৃতিকফ্রন্ট, দিনমজুরফ্রন্ট, উলামাফ্রন্ট, হিন্দুফ্রন্ট, বৌদ্ধফ্রন্ট, খৃস্টানফ্রন্টসহ বিভিন্ন ফ্রন্টের কমিটি গঠন হচ্ছে।