Total Bangla Logo
For bangla আজ বৃহস্পতিবার 12:39 am
27 July 2017    ১১ শ্রাবণ ১৪২৪    02 ذو القعدة 1438

ইসলামী ব্যাংক কোন পথে হাঁটছে, শঙ্কা নাকি সম্ভাবনা?

তাকরিম হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৫:৪৬ পিএম, ৬ জানুয়ারি ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৭:৫৬ এএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ রবিবার

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর এই বড় পরিবর্তন শঙ্কা নয়, সম্ভাবনাই নিশ্চিত করবে-আমরা তাই আশা করি।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর এই বড় পরিবর্তন শঙ্কা নয়, সম্ভাবনাই নিশ্চিত করবে-আমরা তাই আশা করি।

১৯৮৩ সালের ১৩ মার্চ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড পথচলা শুরু করার পর ব্যাংকটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি ২০১৭)। বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একই দিনে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও এমডি পদে পরিবর্তনের পাশাপাশি আরও কয়েকটি কমিটি পুনর্গঠনসহ যে সিদ্ধান্ত এই ব্যাংকটিরই বোর্ড মিটিং থেকে এসেছে, তা নজিরবিহীন হওয়ায় এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিশেষ করে ব্যাংকিং ও ইসলামি অঙ্গনে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ-মন্তব্য। ব্যাংকটিতে এই বড় পরিবর্তনের ঘটনাকে একটি মহল বলছে, এর ফলে ব্যাংকটি এখন শঙ্কার পথে যাচ্ছে। আবার অনেকে বলছেন, না, ব্যাংকটি বরং সম্ভাবনার পথেই হাঁটছে। বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো।

 

বড় পরিবর্তন

 

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) পদে পরিবর্তন এসেছে। ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আরাস্তু খান। নতুন এমডি হিসেবে ইউনিয়ন ব্যাংকের বর্তমান এমডি মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়ার নাম অনুমোদন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি ২০১৭) রাজধানীর একটি হোটেলে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর এক প্রেস রিলিজে তা জানানো হয়।



সভায় ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ইউসুফ আবদুল্লাহ্ আল-রাজি ফের নির্বাচিত ও অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলমকে নির্বাচিত করা হয়। মেজর জেনারেল (অব.) ইনজিনিয়ার আবদুল মতিনকে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান, ড. মো. জিল্লুর রহমানকে অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ও মো. আবদুল মাবুদ পিপিএমকে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে।



এর আগে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন ইনজিনিয়ার মুস্তাফা আনোয়ার। এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মোহাম্মদ আবদুল মান্নান। বৃহস্পতিবারের সভায় তাঁরা পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান এম. আযীযুল হকও। তারা তিনজনই বিভিন্নভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।



ইসলামী ব্যাংকের নতুন নির্বাচিত চেয়ারম্যান আরাস্তু খান এর আগে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে যোগ দেন তিনি। আরমাডা স্পিনিং মিলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হন। পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর বৃহস্পতিবারই প্রথম ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে অংশ নেন আরাস্তু খান। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবেও এর আগে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

আরাস্তু খানের জন্ম মানিকগঞ্জ জেলার গরপাড়া গ্রামে। তিনি ঢাকা ইউনিভারসিটি থেকে এমএসএস ডিগৃ ও আমেরিকার হারভার্ড ইউনিভারসিটি থেকে মাস্টার্স ইন পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন (এমপিএ) ডিগৃ অর্জন করেন। জনাব আরাস্ত্ত খান বলেছেন, ‘বৃহস্পতিবার আমি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রথম অংশ নিয়েছি। এ সভাতেই আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। কমার্স ব্যাংক থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।’


জানা গেছে, এতদিন ইবনে সিনার প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন মুস্তাফা আনোয়ার। তিনি ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের পাশাপাশি পরিচালক পদও ত্যাগ করেছেন। সঙ্গে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন-এর পদও ছেড়ে দিয়েছেন। বিদায়ী চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ার বলেছেন, ‘পর্ষদের সভায় ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান এম. আযীযুল হক ও এমডি আবদুল মান্নান পদত্যাগ করেছেন। সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’


ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এমডি হিসেবে আরও ছয় মাস মেয়াদ ছিল আবদুল মান্নানের। এরপরও তাকে এমডি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া বা তার নিজের পদত্যাগের কারণ মূলত তার বহুবিধ অপকর্ম এবং স্বেচ্ছাচারি সিদ্ধান্ত। ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে তার মতো এমডি খুবই বেমানান ছিল। দেশের সবচেয়ে পুরানো এবং বড় ইসলামী ব্যাংকের এমডি পদে থেকেও তিনি ব্যাংকটির শরিয়া কমিটিকে নিজের পকেট কমিটি হিসেবে ব্যবহার করতেন। ইসলামি শরিয়া পরিপালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এই ব্যাংকটিতে তার আমলেই সবচেয়ে বেশি শরিয়াপরিপন্থী অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটেছে।

 

 


ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন : কে কী ভাবছেন?



দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগে ১৯৮৩ সালের ১৩ মার্চ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম ইসলামী ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। দেশে শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ব্যাংক। শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৬৩ শতাংশের বেশি মালিকানা ছিল ইসলামী ব্যাংকে। গত দুই বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকে তাদের মালিকানা ছেড়ে দেওয়ায় উদ্যোক্তা অংশের পরিমাণ কিছুটা কমে যায়। বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও এমডি পদে পরিবর্তনের মতো এই ঘটনা ব্যাংকটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন। ফলে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে নানামুখী মন্তব্য-বিশ্লেষণ।


ইসলামী ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ বলছেন, এ পরিবর্তন এসেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তেই। এর ফলে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। শেষ পরিণতি সম্পর্কেও তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে এই যে বড় পরিবর্তন-এটাকে কেউ স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না। তাই ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। শেষ পরিণতি সম্পর্কেও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এ ধরনের পরিবর্তনে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত। তাই সহজেই বলা যায়- এ পরিবর্তন ব্যাংকটিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এর শেষ পরিণতি কী হবে- এখনই বলা না গেলেও খুব সহজেই তা অনুমেয়। এর আগে যতটি ব্যাংকেই সরকার হস্তক্ষেপ করেছে, কোনোটিতেই ভাল কিছু হয়নি। বরং ওই ব্যাংকের বারটা বেজেছে।’  তিনি মনে করেন, ইসলামী ব্যাংকে এই পরিবর্তন হয়েছে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপে।


ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত এক অফিসার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে বলেন, ‘সবচেয়ে মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকটিতে সরকারি হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। এর মাধ্যমে ব্যাংকটির পথচলায় পায়ে পেরেক মারা হয়েছে। এর পরণতি গ্রামীণ ব্যাংকের যা হয়েছে, তার চেয়েও ভয়াবহ হবে বলে আমার আশঙ্কা। এর ফলে গ্রাহকরা আস্থা সঙ্কটে পড়বেন। উদ্যোক্তারা শঙ্কায় থাকবেন।’


সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অফ বাংলাদেশ-এর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল, বিশিষ্ট ইসলামি ব্যাংকিং ব্যক্তিত্ব মোঃ মোখলেছুর রহমান টোটালবাংলা২৪ ডটকমকে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে এই পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। আমি মনে করি তা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়ই সম্পন্ন হয়েছে। যারা বলেন ব্যাংকটির পরিবর্তন লুটপাট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়েছে, তাদের মতের সঙ্গে আমি একমত নই। একটি বেসরকারি ব্যাংকে হস্তক্ষেপের আইনগত কোনো সুযোগই সরকারের হাতে নেই।’



ইসলামী ব্যাংকের নতুন নিয়োগ পাওয়া ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন ব্যাংকে শরিয়াহ কমিটির বর্তমানে মেম্বার সেক্রেটারি। ইউনিয়ন ব্যাংকেরই বর্তমান এমডি হিসেবে তাঁকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি-জানি। মানুষ হিসেবে তিনি অনেক ভালো। ব্যাংকিং ব্যক্তিত্ব হিসেবে অনেক যোগ্য এবং বেশ দক্ষ। সর্বশেষ বর্তমান সরকার যে কটি ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছে, এর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংক সামগ্রিকভাবে এক নম্বর অবস্থানে আছে। এক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনেক। ইসলামি শরিয়ার ব্যাপারেও তাঁর যথেষ্ট আন্তরিকতা আছে। আমাদের শরিয়াহ কমিটির প্রতিটি মিটিংয়ে তিনি অংশ নিয়েছেন। একটি মিটিংও তিনি কখনো মিস করেননি। ইউনিয়ন ব্যাংকে শরিয়াহ বোর্ডকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি অনেক অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। তিনি একজন প্রফেশনাল ব্যাংকার। রূপালি ব্যাংকেরও এমডি ছিলেন। ইসলামী ব্যাংকে তিনি এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে আমার বিশ্বাস, ব্যাংকটি আরও সাফল্য ও সম্ভাবনার দিকেই এগুবে।’  


বাংলাদেশ ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টার-এর ডিরেক্টর মাওলানা আহমদ আবু বকর টোটালবাংলা২৪ ডটকমকে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকটিকে জামায়াতে ইসলামী এতদিন তাদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বানিয়ে রেখেছিল। তাতে সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো অনেক হস্তক্ষেপও দলটি করতো। যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকটিতে জামায়াতের সেই হস্তক্ষেপ কমিয়ে আনার যে প্রক্রিয়া চলছিল, সেই প্রক্রিয়ারই একটি স্বাভাবিক ঘটনা বৃহস্পতিবার ঘটেছে। এটি সরকার করেনি। সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপেও হয়নি। বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির শীর্ষ পদে যে পরিবর্তন হয়েছে, তা ব্যাংকের বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত। বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্তটি সরকার হয়তো নেগেটিভ মনে করবে না। বলা যায়, বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত যারা নিয়েছেন, তারা হয়তো সরকারকে খুশি করতেই এমনটি করেছেন।’


 
তিনি বলেন, ‘প্রাইভেট কোনো ব্যাংককে জাতীয়করণ করা বেশ কঠিন। সে কারণেই দাবি থাকা সত্ত্বেও সরকার ইসলামী ব্যাংককে জাতীয়করণ করেনি।‘ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকে সরকার হস্তক্ষেপ করলেও ড. ইউনূস সাহেবের আমলের চেয়ে গ্রামীণ ব্যাংক খারাপ কোনো নজির সৃষ্টি করেনি। নেগেটিভ প্রচারণা আছে। বেসিক ব্যাংকে সরকারি হস্তক্ষেপের পর বর্তমানে ব্যাংকটি অস্তিত্ব সংকট মোকাবেলা করে লাভজনক পর্যায়ে চলে এসেছে। সরকারি হস্তক্ষেপ করলেই সেটির বারটা বাজবে-একথা ঢালাও বলা যাবে না।


তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ১ লাখ কোটি টাকার মতো ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে। এক্ষেত্রে পরিচালকদের অর্থ নিতান্তই নগণ্য। সাধারণ মানুষের আমানতের অর্থই মূলত এই ব্যাংকটির প্রাণশক্তি। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমদ নিজের ইচ্ছায় এবং ক্ষমতায় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য দুটি অপশন তৈরি করেছিলেন। এর একটি হলো, সাধারণ আমানতকারীদের প্রতিনিধিত্ব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করতে হবে। অপশন তৈরি করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাংক তা বাস্তবায়ন করেনি। ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের অর্থ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় অন্তত এই ব্যাংকে অবশ্যই তাদের মধ্য থেকে পরিচালক হিসেবে প্রতিনিধি রাখা উচিত। আরেকটি অপশন হলো, শেয়ার হোল্ডার না হওয়া সত্ত্বেও যেকোনো বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিশেষ বিবেচনায় বিকল্প পরিচালক হিসেবে যে কাউকে নিয়োগ দিতে পারে। ইসলামী ব্যাংকে এসব ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ইচ্ছা বা উদ্যোগে হয়নি।’


   
একজন আলেম ফেসবুকার সৈয়দ শামসুল হুদা তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘অবশেষে ইসলামী ব্যাংকও পরিপূর্ণ বেদখল হয়ে গেলো নতুন দখলদারদের কাছে। গতরাতে নিরব অভুত্থান।’ সৈয়দ শামসুল হুদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টোটালবাংলা২৪ ডটকমকে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে আমার একাউন্ট আছে। আমার একাউন্ট নিয়ে আমি চিন্তিত নই। একজন সাধারণ মুসলিম হিসেবে আমি চাই, ইসলামী ব্যাংক তার গতিতেই চলুক।‘   নিজের স্ট্যাটাস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন, ‘আমাদের মধ্যেই অনেকে আছে ইসলামী ব্যাংকের নামই শুনতে পারে না। মনে হয়, ইসলামী ব্যাংকটাই বড় সমস্যা। আবার নিজেরাও কিছু করতে পারছে না। করছে না। এজন্যই এভাবে বলা।’