Total Bangla Logo
For bangla আজ বৃহস্পতিবার 12:40 am
27 July 2017    ১১ শ্রাবণ ১৪২৪    02 ذو القعدة 1438

ইসলামী ফ্রন্ট নেতাদের কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি, কীভাবে জানুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৯:৫৫ পিএম, ৭ নভেম্বর ২০১৬ সোমবার | আপডেট: ০৬:১৭ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৬ শনিবার

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ঐক্য পরিষদ নামের একটি ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা আজ সোমবার (৭ নভেম্বর ২০১৬) এক বিবৃতি পাঠিয়ে সুন্নি মতের আরেকটি সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের কয়েক জন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা বলে ওই নেতারা কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি করেছে। বিএনপি নেতাদের কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণের টাকা নিয়েছে। সমাবেশ করতে এখনো তারা সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের অনুমতিও পায়নি। ৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ ঠিকানা দেখিয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ঐক্য পরিষদ-এর পাঠানো এই বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন কাজী আবদুল জব্বার।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা আবদুল মতিন এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ঐক্য পরিষদের পাঠানো বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন মাওলানা আব্দুল গাফ্ফার, মুফতি মাসুম বিল্ল­াহ, মাওলানা মুহিব্বুল­াহ কাসেমী, হাফেজ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মাওলানা কাজী আব্দুল জব্বার, মুফতি ইব্রাহিম খলিল ফারুকী, মাওলানা আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

বিবৃতিতে নেতারা বলেছেন, আগামী ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে মহাসমাবেশের নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছে। সমাবেশের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল মতিন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব। তার নেতৃত্বে চট্টগ্রামের স ম সামাদ, মাওলানা বখতিয়ার ও ঢাকার মাওলানা মাসুদ হোসেন আল-কাদরী এই চক্রের মূল। তারা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্যে সুন্নি, গোপনে (রাতে) জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে সখ্যতা রাখে। ইসলামের নামে কিছু দরবার ও খানকার পীরদেরও তারা এ চাঁদাবাজিতে যুক্ত করেছে। এদের ছদ্মবেশী অরাজনৈতিক সংগঠনের নাম আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত সমন্বয় পরিষদ। এই পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারীও ওই মতিন। প্রকৃত বিষয় হচ্ছে, অতীতের নির্বাচনগুলোতে তারা জামায়াতের সঙ্গে সুর মিলিয়ে নির্বাচনী জনসভা ও ওয়াজ মাহফিলে প্রকাশ্যে বলতো, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে ঈমান থাকবে না। আওয়ামী লীগ নাস্তিকের দল।

বিবৃতিতে নেতারা অারো বলেন, সুন্নতি জামায়াতের মধ্যে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও আওয়ামী মানসিকতার, তাদের ব্যবহার করতেই চক্রটি এই কৌশলী নাম দিয়েছে। তারা ঢাকায় আগামী ১২ নভেম্বর শনিবার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী মহাসমাবেশের নামে বিএনপিকে তাদের জনসমর্থন দেখাতে চাইছে। আগামী পারলামেন্ট ইলেকশনকে সামনে রেখে জোটবদ্ধ হওয়ার পথ পরিষ্কার করতেই তারা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তারা সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে মহাসমাবেশ করার অনুমতি এখনো পায়নি। অথচ সমাবেশের নামে ইতিমধ্যেই কয়েক কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে হাতিয়ে নিয়েছে। এর আগেও এ চক্রটি ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন সমাবেশ ও মাহফিলের নামে এভাবে চাঁদাবাজি করেছে। আবার সমাবেশ না করেও চাঁদার টাকা লুটপাট করেছে।

নেতারা দাবি করেন, ১২ নভেম্বর এদের সমাবেশের জন্য অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন বিএনপি নেতা ­আবদুল্লাহ আল-নোমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।

বিবৃতিতে বলা হয়, এদের প্রতারণার স্বভাব নতুন নয়। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সমাবেশ করতে পারবে না বুঝতে পেরেই সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, সাংবাদিক সম্মেলন এবং সুন্নি জনতার সামনে নানান গল্প, কবিতা শুনিয়ে হামদ, নাত গেয়ে চাঁদাবাজি করার টাকা হালাল করার কৌশল নিয়েছে। এদের ভণ্ডামির বিষয়ে চাঁদা দানকারী, দেশবাসী এবং সরকারকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।


যোগাযোগ করা হলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ঐক্য পরিষদ নেতা মুফতি মাসুম বিল্লাহ টোটালবাংলা২৪ ডটকমকে বলেন, বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপন তাদেরকে বড় অংকের টাকা দিয়েছেন। আরো অনেকের কাছ থেকেও তারা টাকা নিয়েছে। এসব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে যেমন হয় না, তেমনি কোনো লিখিত ডকুমেন্টেও হয় না। তিনি বলেন, আগামী পারলামেন্ট ইলেকশনে সুুন্নি জামায়াতের সমর্থন এবং কিছু আসন ভাগাভাগিই এই বিপুল পরিমাণের টাকা লেনদেনের মূল লক্ষ্য।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ঐক্য পরিষদ নেতাদের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এবং চাঁদাবাজিতে কথিত নেতৃত্বদানকারী মাওলানা আব্দুল মতিন টোটালবাংলা২৪ ডটকমকে বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। অভিযোগকারী সংগঠনের গতকালও কোন অস্তিত্ব ছিল না। রাস্তার কিছু লোক একটি সংগঠন নাম দিয়ে এসব অপপ্রচার করছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা গত ৬ এপৃল আবেদন করে ৭ এপৃল ২০১৬ তারিখে ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে মহাসমাবেশের অনুমতি পেয়েছি। গত ছয় মাস ধরে এ মহাসমাবেশ সফল করতে কাজ করে যাচ্ছি। অবশ্যই সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সমাবেশ হবে।