আজ বৃহস্পতিবার 9:50 pm21 September 2017    ৬ আশ্বিন ১৪২৪    29 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

ইসরায়েল বর্জনে গর্জে ওঠার ডাক ইহুদিনেত্রীর, কারণ জেনে নিন

সাদেকা হাসান, জয়েন্ট এডিটর

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:৫২ পিএম, ১ নভেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ১২:৫৫ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৬ রবিবার

ইসরায়েল বর্জনে গর্জে ওঠার ডাক ইহুদিনেত্রীর, কারণ জেনে নিন

ইসরায়েল বর্জনে গর্জে ওঠার ডাক ইহুদিনেত্রীর, কারণ জেনে নিন

রেবেকা ভিলকোমারসন। জিউস ভয়েজ ফর পিসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর। এটি আমেরিকাভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা। তিনি একজন ইহুদি। ইহুদি হয়েও এই মানবাধিকারনেত্রী বিশ্ববাসীকে বলছেন, আপনারা সন্ত্রাসী-জালেম রাষ্ট্র ইসরায়েলকে বর্জন করুন। ইসরায়েল সম্পর্কে লেখা এক নিবন্ধে তিনি এই আহ্বান করেন। নিবন্ধে ইসরায়েল বর্জনের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও মন্তব্য যুক্ত হয়েছে। আমেরিকার প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট-এ নিবন্ধটি ছাপা হয়। রেবেকার ভাষায় নিবন্ধের তরজমা তুলে ধরা হলো। নিজেরা পড়ুন। বন্ধুদের শেয়ার দিন। জানান দিন, জালেম ইসরায়েল বর্জনে এখন সোচ্চার হচ্ছে খোদ ইহুদিরাই। আপনারাও জেগে উঠুন।

২০০৯ সালে ‘অপারেশন কাস্ট’ চলার সময় আমি তেলআবিবে বাস করতাম। ফিলিসতিনের গাজা ভূখণ্ডে চালানো ওই অপারেশনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১৪০০ ফিলিসতিনি নিহত হয়।

এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আমরা অল্প কিছু লোক রাস্তায় নামি। তেলআবিবের সাধারণ মানুষ আমাদের ডিম ছুঁড়ে ও হামলার ভয় দেখিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।

এর পরদিন আমি আমার মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়ে উপস্থিত অভিভাবকদের দেখে অবাক হই। তারা এমন আচরণ করে, যেন কিছুই হয়নি।

তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে, কী হয়েছে? বলি, মাত্র ৪০ মাইল দূরে যে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হচ্ছে, তা আমি মানতে পারছি না। এ সময় তারা হয়তো রহস্যময়ভাবে নীরব হয়ে যায়। অথবা ক্রোধের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নেয়। আমাকে তিরস্কার করে।

এ অবস্থায় আমি ফিলিসতিনিদের মুক্তি ও অধিকারের জন্য শক্ত অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। তাই আমি ‘বর্জন, পরিত্যাগ ও নিষেধাজ্ঞা’ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হই। এটি একটি অহিংস আন্দোলন।

২০০৫ সালে ফিলিসতিনি মুক্তিকামী জনগণের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান দাবিতে সারাবিশ্বের মানবতাবাদীরা এ আন্দোলন শুরু করেন।

‘বিডিএস’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনও এখন সরকারি রোষের শিকার। আমার নিজ স্টেট নিউইয়র্কের আদালতও এই আন্দোলনে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের অনুমতি দিয়েছে।

এর ৭ বছর পর গাজা ভূখণ্ডে আরো দু’টি প্রাণঘাতী হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ২০১৪ সালের ওই হামলায় কমপক্ষে ৫০০ ফিলিসতিনি শিশু শহীদ হয়েছে। এমনকি বোমা হামলার প্রাদুর্ভাব না থাকলেও গাজাবাসীকে জীবন রক্ষার্থে সারাবছর অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়।

পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত চেকপয়েন্ট, প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ আতঙ্কের মধ্যে জীবন যাপন করতে হয়। ইসরায়েলের ভেতরে ইসরায়েলি নাগরিকত্ব নিয়ে বসবাসকারী ফিলিসতিনিদের ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতি প্রয়োগ করা হয়। সবক্ষেত্রেই এসব হতভাগ্য ফিলিসতিনি হন বঞ্চিত, শোষিত ও  মজলুম।

আমি জানি, বর্হিবিশ্বের চাপ সহ্য করা অসম্ভব না হলে ইসরায়েল তার ফিলিসতিনি নীতি কখনো বদলাবে না। বিডিএস নামের ‘বর্জন, পরিত্যাগ ও নিষেধাজ্ঞা’ আন্দোলন ইসরায়েলের জন্য এ রকম একটি চাপ।

ইসরায়েলের প্রতি অব্যাহত বর্জন ও নিষেধাজ্ঞার দাবি দেশটির শাসকদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। ২০০৫ সালে আন্দোলনটি শুরু হওয়ার পর ফিলিসতিনিদের প্রতি ইসরায়েলিদের জুলুমের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। জুলুম-নিপীড়নের শিকার মানুষের আহাজারি-আর্তনাদ এখনো কান পাতলেই শোনা যায়-এটা সত্যি। এরপরও এই আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিবেকের কিছুটা হলেও টনক নড়েছে।

আমি আশা করি, একদিন ফিলিসতিনিরা তাদের স্বাধীনতা ও অধিকার ফিরে পাবে। নিজেদের ভূখণ্ডে কোনোরকম ভয়-ভীতি ছাড়াই জীবন-যাপন করতে পারবে। এটি অর্জনের জন্য ইসরায়েলকে বাধ্য করতে হবে, শান্তি স্থাপনে।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েলকে বাধ্য করতে আসুন সকলে মিলে জালেম-সন্ত্রাসী ইসরায়েল রাষ্ট্রকে বর্জন ও ত্যাগ করি। ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ বর্জন না করলে কখনোই তারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধ্য হবে না। সময় এসেছে, বিশ্ববিবেক জাগ্রত করার। কারা বিশ্ববিবেক জাগাবে? আমি, আপনি, আমাদের সবাইকেই এক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা শান্তি চাই। ইসরায়েলি সন্ত্রাস বন্ধ করতে চাই।

 

সাদেকা হাসান, জয়েন্ট এডিটর, টোটালবাংলা২৪ ডটকম