Total Bangla Logo
For bangla আজ শুক্রবার 2:47 pm
28 July 2017    ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪    04 ذو القعدة 1438

ইসরায়েলে ভয়াবহ আগুন, সউদি শায়খ আল বাররাক-এর ফতওয়া

মুহাম্মাদ শোয়াইব, সাব-এডিটর

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:৪৯ পিএম, ১ ডিসেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার

ইসরায়েলের ভয়াবহ আগুনে পুড়ছে বাড়ি-ঘর-গাছ-গাছালিও...

ইসরায়েলের ভয়াবহ আগুনে পুড়ছে বাড়ি-ঘর-গাছ-গাছালিও...

অভিশপ্ত ইসরায়েলের আগুন কিছুতেই নেভানো যাচ্ছে না। ৬৩০টি ফায়ার সার্ভিস টিম এবং ৪৮০টি অগ্নিনির্বাপক বিমান এই আগুন নেভাতে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই এসব বিমানের সাহায্যে আড়াই লাখ টন পানি মাটিতে ফেলা হয়েছে। ব্যবহার করা হচ্ছে আগুন নেভানোর নানা কেমিক্যাল। প্রায় ২,৫০০ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী কাজ করছে।

 

ইসলাম ধর্মের পবিত্র আজানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে শুরু হওয়া এই দাবানল এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় নি। নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কোনো লক্ষণও আপাতত দেখা যাচ্ছে না। দখলদার ইহুদিবাদী ইসরায়েলের দাবানল অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড খরা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে চলতি সপ্তাহে অধিকৃত ইসরায়েলি ভূখণ্ডে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। দাবানলে সেখানকার আবাসিক এলাকা এবং বনাঞ্চল ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ক্ষতিগ্রস্তদের সব রকম সহায়তায় আশ্বাস দিয়েছেন।

জেরুজালেম পোস্টের রিপোর্টে জানা যায়, বন রক্ষা করার প্রচেষ্টায় অতিরিক্ত কর্মী যোগদান করেছে।

ইসরায়েলের ভয়াবহ দাবানল নিয়ে মুসলিমদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ খুশি হচ্ছেন, কেউ সাহায্য করছেন। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের দাবানলের ব্যাপারে মুসলমানদের অবস্থান কী হওয়া উচিত-এই সম্পর্কে একটি ফতওয়া প্রকাশ করেছেন সউদি আরবের প্রখ্যাত শায়খ আবদুর রহমান বিন নাসির আল বাররাক হাফিজাহুল্লাহ। টোটালবাংলা২৪ ডটকম-এর পাঠকদের জন্য ফতওয়াটি অনুবাদ করে দেওয়া হলো।

প্রশ্ন: শায়খ! (আল্লাহ আপনার প্রতি ইহসান করুন।) ইসরায়েল কর্তৃক জবর দখলকৃত অঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা কি মুসলমানদের জন্য আনন্দের ও আত্মপ্রশান্তির কারণ হতে পারে? নাকি এতে খুশি হওয়ার কিছু নেই? কারণ, এই অঞ্চলটিতো প্রকৃতপক্ষে মুসলমানদের। অর্থাৎ এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান কী হওয়া চাই?

জবাব : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার। দুরুদ ও সালাম আমাদের নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবার পরিজন ও সাহাবায়ে কেরামের ওপর। বিষয়টি সবারই জানা, ইহুদি জাতি মুসলমানদের জঘন্য শত্রু। আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেছেন,

لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُمْ مَوَدَّةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَى ذَلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ

"তুমি অবশ্যই মুমিনদের জন্য মানুষের মধ্যে শত্রুতায় অধিক কঠোর পাবে ইহুদিদেরকে
এবং যারা শিরক করেছে তাদেরকে। মুমিনদের জন্য বন্ধুত্বে তাদের মধ্যে নিকটতর পাবে তাদেরকে, যারা বলে,  ‘আমরা নাসারা’ (খৃস্টান)। তা এই কারণে, তাদের মধ্যে অনেক পণ্ডিত ও সংসারবিরাগী আছে এবং তারা নিশ্চিই অহঙ্কার করে না।" (সুরা মায়েদা : ৮২)

তাদের এ কুৎসিত বৈশিষ্ট্য সবসময়ের জন্য। তাদের সঙ্গে সন্ধি থাকুক বা যুদ্ধাবস্থা থাকুক। পবিত্র কোরআনে বারবার ইহুদিদেরকে মুসলিমদের চরম শত্রু বলে বর্ণনা করা হয়েছে এবং তাদের শত্রুতা থেকে মুসলিমদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে! অনেকের কাছে এই ইহুদিবিদ্বেষ অমূলক মনে হতে পারে! কোরআনের বাণী যে এ বিষয়ে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সত্য, তা প্রমাণ করতে ইতিহাসের পাতা না উল্টিয়ে শুধু বর্তমান পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখলেও চলবে। এমনকি কয়েকদিন আগের খবরের পাতায়ও রয়েছে এর জলজ্যান্ত প্রমাণ! ইসরায়েলি কট্টরপন্থী রাব্বিরা বলেছেন, ফিলিসতিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হত্যা করা ‘ধর্মীয় দায়িত্ব’। ইসরায়েলি মিডিয়া এ খবর প্রকাশ করেছে।

 

ইসরায়েলি নিউজ পোরটাল ‘ওয়ালা’ জানিয়েছে, ডানপন্থী রাব্বিরা ফিলিসতিনি আন্দোলন দমন-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, এটি শুধু খালি হাতে নয়, ফিলিসতিনিদের হত্যা করে হলেও দমন করা ধর্মীয় দায়িত্ব। সাফেদ নগরীর প্রধান রাব্বি স্যামুয়েল ইলিইয়াহু আরেক ধাপ এগিয়ে যেসব ইসরায়েলি পুলিশ ও সৈন্য আটকের পরও ফিলিসতিনিদের জীবিত রাখেন, তাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মিডলইস্ট মনিটর এর রিপোর্টে জানা যায়, তিনি ফেসবুকে বলেছেন, দুর্বৃত্তদের আটকের পর জীবিত রাখা নিষিদ্ধ। কারণ, সেক্ষেত্রে এই আশঙ্কা থেকে যায়, তারা মুক্তি পেয়ে আবার হত্যাকাণ্ড চালাবে। ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিসতিনিরা প্রতিরোধ আন্দোলন সৃষ্টি করার প্রেক্ষাপটে ইহুদি রাব্বিরা এই মন্তব্য করলেন।


বর্তমান ইহুদি রাষ্ট্রটি মুসলমানদের জমি জবরদখলের মাধ্যমে ‘মুহারিব’ যুদ্ধরত রাষ্ট্র। অর্থাৎ ইসলামের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ পরিচালনাকারী রাষ্ট্র। মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত জাতিসংঘের সমস্ত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার পিছনে ভূমিকা রাখে মূলত ইহুদিরাই। এজন্য মুসলমানদের অধিকার হলো, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। তাদেরকে বন্দি করা এবং তাদের সম্পদগুলো গনিমতরূপে ছিনিয়ে নেওয়া। তা সম্ভব না হলে তাদের জান-মালের বিনাশে সর্বাত্মক চেষ্টা করা। বরং এটি আল্লাহ তায়ালার আদেশ। আল্লাহ বলেন:

قَاتِلُواْ الَّذِينَ لاَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلاَ بِالْيَوْمِ الآخِرِ وَلاَ يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ

"লড়াই কর তাদের সঙ্গে, যারা ঈমান আনে না আল্লাহর প্রতি, না শেষ দিনের প্রতি এবং হারাম করে না যা হারাম করেছেন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল।" (সুরা তওবা :২৯)

আমরা তা করতে সক্ষম না হলে তখন আমাদের উচিত, তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করা। যাতে আল্লাহ তায়ালা আমাদের কোনো ভূমিকা ছাড়াই তাদের ওপর নিরেট প্রকৃতিকভাবে কঠিন শাস্তি ও আজাব নাজিল করেন। যেমন, তিনি শাস্তি দিয়েছেন ফেরআউন ও তার সম্প্রদায়কে এবং যুগে যুগে আল্লাহর রাসুলগণের শত্রুদেরকে। ফেরআউন ও তার কওমের ওপর আপতিত শাস্তিগুলোর কিছু বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:

فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الطُّوفَانَ وَالْجَرَادَ وَالْقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ آيَاتٍ مُّفَصَّلاَتٍ

"অনন্তর আমি প্রেরণ করেছি তাদের উপর তুফান, ফড়িং, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত; সুস্পষ্ট নিদর্শনরূপে।" (সুরা আরাফ : ১৩৩)

 

ইতিহাসের বিভিন্ন অবাধ্যচারী জাতি-গোষ্ঠীর ওপর আপতিত বিভিন্ন আজাব ও শাস্তির সামগ্রিক বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন :

فَكُلاًّ أَخَذْنَا بِذَنبِهِ فَمِنْهُم مَّنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُم مَّنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُم مَّنْ خَسَفْنَا بِهِ الأَرْضَ وَمِنْهُم مَّنْ أَغْرَقْنَا

"আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের কারণে পাকরাও করেছি। তাদের কারও প্রতি প্রেরণ করেছি পাথারসহ প্রচণ্ড বাতাস, কাউকে পেয়েছে বজ্রপাত, কাউকে আমি বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছি নিমজ্জিত। আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করার ছিলেন না; তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে।"(সুরা আল আনকাবুত: ৪০)

এসব দলিলের অবতারণা করে শায়খ বলেন : ইসরায়েল কর্তৃক জবরদখলকৃত ভূমিটি পূর্বে ফিলিসতিনিদের ছিল এ যুক্তি দিয়ে তার হুরমত ও পবিত্রতার দোহায় দেওয়া যাবে না, যতক্ষণ না তা ইহুদিদের কবল থেকে মুক্ত না হবে। অথচ তারা সেখানে অন্যায়ভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে আসছে। সেখানকার ক্ষেত, ফসল ও গাছ থেকে উপকার গ্রহণ করে আসছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক তাদেরকে (আজাবস্বরূপ) এসব উপকার থেকে বঞ্চিত করায় আমাদের আনন্দিত হওয়াতে বিস্ময়ের কিছু নেই।

 

শায়খ আবদুর রহমান আল বাররাক
সোমবার, ২৭ সফর ১৪৩৮ হিজরি

http://www.almoslim.net/node/273969