আজ বৃহস্পতিবার 6:44 am09 July 2020    ২৪ আষাঢ় ১৪২৭    18 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

ইনডিয়ার পছন্দের প্ল্যাটফর্ম বিমস্টেককে জাগিয়ে তুলবেন শেখ হাসিনা?

তাকরিম হাসান

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ১২:১২ এএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৬ রবিবার

ইনডিয়ার পছন্দের প্ল্যাটফর্ম বিমস্টেককে জাগিয়ে তুলবেন শেখ হাসিনা?

ইনডিয়ার পছন্দের প্ল্যাটফর্ম বিমস্টেককে জাগিয়ে তুলবেন শেখ হাসিনা?

গোয়া শহরের ডাবোলিম এয়ারপোর্ট-এ আজ রোববার সকাল দশটা নাগাদ বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ এয়ারক্র্যাফটে গিয়ে নামবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃকস শীর্ষ সম্মেলন তথা বিমস্টেক আউটরিচে যোগ দিতেই তাঁর এই সফর। আরব সাগরের তীরের এ শহরে গিয়ে থাকবেন ২৪ ঘণ্টারও কম।


গোয়ার দক্ষিণ প্রান্তে ক্যাভোলেসিম সৈকত ঘেঁষে যে পিচঢালা মসৃণ রাস্তাটা চলে গেছে, তার একেবারে শেষ মাথায় আরব সাগরের কোল ঘেঁষে বিলাসবহুল হোটেল লীলা। বিমস্টেক আউটরিচের ভেন্যু হিসেবে ইনডিয়া এই হোটেলকেই বেছে নিয়েছে, যথারীতি এটাই হবে গোয়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঠিকানা।

ব্রাজিল-রাশিয়া-ইনডিয়া-চীন-দক্ষিণ আফৃকা মিলে যে বৃকস জোট, সেখানে গত কয়েক বছর ধরেই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ তার অঞ্চলের অন্য দেশগুলোকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানায়। দক্ষিণ আফৃকার জেকব জুমা, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন সবাই এমনটাই করে আসছেন। ঠিক একই পন্থায় ইনডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গোয়াতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বেছে নিয়েছেন ইনডিয়ার নতুন পছন্দের প্ল্যাটফর্ম বিমস্টেককে।

বিমস্টেকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শেখ হাসিনার এই জোটের প্রতি আলাদা আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা আছে। ১৯৯৭’র জুনে ব্যাংককে যখন চার দেশ মিলে এই জোটের সূচনা করে, তখন উপস্থিত রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে একমাত্র শেখ হাসিনাই গোয়াতে যাচ্ছেন। তখন যারা ছিলেন, সেই ইনডিয়ার আই কে গুজরাল (প্রয়াত), শ্রীলঙ্কার চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গাও এখন রাজনীতি থেকে অনেক দূরে। ফলে উনিশ বছর পর গিয়ে গোয়াতে শেখ হাসিনা তার পুরনো একটা স্বপ্নের বাস্তবায়নের সুযোগ পাচ্ছেন বলা চলে। দায়িত্বটাও তাঁর বেশি। কারণ প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে হাজির থাকছেন একা তিনিই।

গোয়াতে নামার একটু পরেই এয়ারপোর্ট থেকে সটান তিনি গিয়ে উঠবেন প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরের হোটেল লীলায়। দুপুরে গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীকান্ত পারসেকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে একটি ভোজসভার আয়োজন করেছেন। সেখানেই দুপুরটা কাটবে তাঁর।

দুপুরের পর থেকেই একে একে সব বৈঠক। বিমস্টেকের নেতারা, যাদের মধ্যে আছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী প্রচন্ড, মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলর অং সান সুচি বা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনাও, তাঁরা নিজেদের মধ্যে যেমন বৈঠক করবেন– তেমনই মিলিত হবেন সফররত বৃকস শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকা থেকেই গতকাল শনিবার সোজা গোয়ায় গেছেন। ফলে মাত্র দেড় দিনের মধ্যেই তাঁর আরও একবার সুযোগ হবে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার।

এ ধরনের যে কোনও জোটের শীর্ষ সম্মেলনের অবকাশে রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হতে থাকে অনবরত – গোয়াতেও যথারীতি এর ব্যতিক্রম ঘটছে না। শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হবে রোববার রাত ন’টার পর। বৈঠক গড়াতে রাত যতই হোক, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটা হবেই।

আড়াই বছর আগে নরেন্দ্র মোদি ইনডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই সত্যিকার অর্থে শেখ হাসিনার প্রথম সরকারি ইনডিয়া সফর। মাঝে একবার ইনডিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির স্ত্রী-বিয়োগের পর তার শেষ যাত্রায় যোগ দিতে শেখ হাসিনা দিল্লিতে গেলেও সেটা সেই অর্থে রাষ্ট্রীয় সফর ছিল না। তা ছাড়া গত দুবছর ধরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনের অবকাশেও মোদি-হাসিনা বৈঠক হয়ে আসছে। এ বছর সেপ্টেম্বরে মোদি আমেরিকা না-যাওয়ায় তা হতে পারেনি। ফলে সেই বার্ষিক মোলাকাতটা গোয়াতে পুষিয়ে নেওয়ার তাগিদও থাকছে।

গত মাসেই নিউইয়র্কে দেখা হয়েছিল শেখ হাসিনা ও অং সান সুচি-র। তা সত্ত্বেও গোয়াতে আরও একবার দুজনের বৈঠকের সম্ভাবনা আছে। নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক মাওবাদী নেতা প্রচন্ড কিংবা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার সঙ্গেও তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। এগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একেবারে শেষ মুহূর্তে গিয়ে এসব বৈঠক হতে পারে।

গোয়াতে পা রাখার পর থেকেই একের পর এক ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচি আছে শেখ হাসিনার। এগুলো শেষ হতে হতে গভীর রাত হয়ে যাবে বলে কূটনীতিকরা ধারণা করছেন। রাতেও তিনি কতটুকু ঘুমোনোর সুযোগ পাবেন বলা মুশকিল। সোমবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ ঢাকায় ফিরতে বিমানে ওঠবেন।


প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে ইনডিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়নের মধ্যে গোয়ায় শনিবার শুরু হয়েছে এই অষ্টম বৃকস সম্মেলন। ব্রাজিল, চীন, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইনডিয়ার বাণিজ্যিক জোটের এ সম্মেলনশেষ হবে আজ রোববার।


পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ইনডিয়া। পাঁচ জাতির এই বৃকস শীর্ষ সম্মেলনে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে আরো কোণঠাসা করতে চাইছে ইনডিয়া। ইনডিয়ান সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর এক প্রতিবেদনে এসব কথা উঠে এসেছে।


বৃকস জোটভুক্ত পাঁচ দেশে বাস করে ৩৬০ কোটি মানুষ, যা পুরো বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার সমান। এই দেশগুলোর মোট জিডিপি প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার।


ইনডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, লক্ষ্য পূরণে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা চাইবে ইনডিয়া।


এক ফেসবুক পোস্টে তিনি আরো বলেন, ‘আমি আশাবাদী, এবারের বৃকস সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়বে। সেই সঙ্গে উন্নয়ন, শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সংস্কারের পারস্পরিক সাধারণ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও অগ্রসর হওয়া যাবে।’


এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ায় ইনডিয়ার রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরন জানিয়েছেন, সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে রুশ সামরিক বাহিনীর যৌথ মহড়ার বিষয়েও আলোচনা হবে।


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আফগানিস্তানের আশরাফ গনি, ভুটানের শেরিং তবগে, মালদ্বীপের আবদুল্লাহ ইয়ামিন, মিয়ানমারের অং সান সুচি, নেপালের পুষ্প কমল দাহাল, শ্রীলঙ্কার মাইথৃপালা সিরিসেনা এবং থাইল্যান্ডের ক্ষমতাসীন নেতা প্রায়ুথ চান-ওচা এবারের বৃকস-বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গোয়ায় গিয়ে ইনডিয়ার নতুন পছন্দের প্লাটফর্ম বিমস্টেককে কি জাগিয়ে তুলবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-প্রশ্ন এখন এটাই। কারণ, শেখ হাসিনাই বিমস্টেকের একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা, যিনি এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

বিদেশ-এর সর্বশেষ খবর