আজ বৃহস্পতিবার 9:57 pm21 September 2017    ৬ আশ্বিন ১৪২৪    29 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

ইনডিয়ান বিমানবাহিনীর মুসলিমরা দাড়ি রাখতে পারবেন না

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি, ইনডিয়া

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৬:১১ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬ শুক্রবার

বিমানবাহিনীর একটি প্রতীকী ছবি

বিমানবাহিনীর একটি প্রতীকী ছবি

ইনডিয়ার বিমানবাহিনীতে কেবল ধর্মীয় অনুশাসনের কারণেই দাড়ি রাখা যেতে পারে বলে এক রায়ে জানিয়েছে দেশটির সুপৃম কোর্ট।


ইসলাম ধর্মের সঙ্গে দাড়ি রাখার কোনো সম্পর্ক আদালতের সামনে প্রমাণ করতে না পারায় আদালত বিমানবাহিনীর এক মুসলিম সদস্যকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।


মুহাম্মদ জুবায়ের নামে বিমানবাহিনীর এক করপোরালকে দাড়ি রাখার কারণে বরখাস্ত করেছিল ইনডিয়ান বিমানবাহিনী।

জুবায়েরের দায়ের করা মামলাতেই বৃহস্পতিবার এই রায় দিয়েছে ইনডিয়ার প্রধান বিচারপতি টি এস ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ।


বিমানবাহিনী এক নির্দেশিকায় বলেছিল, ২০০২ এর পহেলা জানুয়ারির আগে যেসব মুসলমান ব্যক্তি বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন দাড়ি-গোঁফ নিয়ে, কেবল তাঁরাই দাড়ি রাখতে পারেন। তার পরে বাহিনীতে যোগ দেওয়া কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে দাড়ি রাখতে দেওয়া হবে না।


শিখ ধর্মের অনুশাসনে যেহেতু দাড়ি, গোঁফ এবং লম্বা চুল রাখা বাধ্যতামূলক, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বলবৎ করেনি বিমানবাহিনী।


ইনডিয়ান বিমানবাহিনীর নিয়মাবলীর ৪২৫ নম্বর ধারাতে বাহিনীর সদস্যদের চুল, দাড়ি, গোঁফ কিভাবে ছাঁটতে হবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। সেখানেই ধর্মীয় অনুশাসনের কারণে ছাড় দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।


এর পরে বেশ কয়েকবার ওই নিয়মাবলীর পরিমার্জন করেছে বিমানবাহিনী। সর্বশেষ পরিমার্জন করা হয় ২০০৩ সালে।

আবেদনকারী জুবায়ের ২০০১ সালের ডিসেম্বরে বিমানবাহিনীতে যোগ দেন, ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি ইসলাম ধর্মের অনুসারী- এই যুক্তিতে দাড়ি রাখার অনুমতি চান।

 

সেই আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পরে পুনরায় দাড়ি রাখার আর্জি পেশ করেছিলেন জুবায়ের। তাকে এয়ার অফিসার কমান্ডিং ডেকে পাঠিয়ে বুঝিয়েছিলেন কেন তাকে দাড়ি রাখার অনুমতি দেওয়া নিয়ম বিরুদ্ধ। সেই অফিসার একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর সদর দফতরে দাড়ি রাখা-না রাখার নিয়মটি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠান।


এরই পরে ছুটিতে চলে যান মুহাম্মদ জুবায়ের। তিনি প্রায় দেড় মাস পরে কাজে যোগ দেওয়ার সময় দেখা যায়, তার মুখে দাড়ি রয়েছে।


তাকে প্রথমে দাড়ি কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে সাময়িকভাবে দাড়ি রাখার অনুমোদন দেন জুবায়েরের সিনিয়র অফিসার। বিমানবাহিনীর সদর দফতর যখন আইনি ব্যাখ্যা পাঠায়, ধর্মীয় কারণে যাঁরা দাড়ি রাখার অনুমতি পেতে পারেন, তাদের মধ্যে জুবায়ের পড়েন না, তখনো নির্দেশ উপেক্ষা করেই তিনি দাড়ি কামিয়ে ফেলতে অস্বীকার করেন। তখনই বরখাস্ত করা হয় মুহাম্মদ জুবায়েরকে।


বরখাস্ত হওয়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছিলেন জুবায়ের, সেটা হাইকোর্ট হয়ে এসেছিল সর্বোচ্চ আদালতে। সুপৃম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, বিমানবাহিনীর মতো একটা সুশৃঙ্খল বাহিনীতে সমতা জারি রাখার উদ্দেশ্যেই দাড়ি গোঁফ রাখার যে নিয়ম জারি আছে, সেটা সবাইকেই মানতে হবে। ওই নিয়ম কোনো নির্দিষ্ট ধর্মে বিশ্বাসীদের প্রতি বৈষম্যের জন্য করা হয়নি।  সূত্র : বিবিসি