আজ শনিবার 6:48 pm08 August 2020    ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭    18 ذو الحجة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

আ. লীগের কাউন্সিলে যায়নি বিএনপি, গিয়েছেন বিচৌধুরী-হুদা

যাকুয়ান রিদা, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০২:১৪ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৬ রবিবার

আ. লীগের কাউন্সিলে যায়নি বিএনপি, গিয়েছেন বিচৌধুরী-হুদা

আ. লীগের কাউন্সিলে যায়নি বিএনপি, গিয়েছেন বিচৌধুরী-হুদা

বিএনপিকে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শরিক হতে দাওয়াত দিয়েছিল ক্ষমতাসীন দলটি। কাউন্সিলে যোগ দেবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে কথাও দিয়েছিল বিএনপি। এরপরও আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি বিএনপি। যোগ দিয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিকল্পধারার সভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। অংশ নিয়েছেন খালেদা সরকারের সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাও।


বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে যোগ দেয়নি আওয়ামী লীগ। ওই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছিলেন, ‘ওরা আসেনি, আমরা যাব’।

শনিবার (২২ অক্টোবর ২০১৬) সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি দলকে দেখা যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের দাওয়াতপত্র পাওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ ফোরামে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত না হওয়ায় কেউ যায়নি।”

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আলাল বলেন, “আমার কাছে কোনো খবর নাই। কোনো মেসেজ মহাসচিবের কাছ থেকে পাইনি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির কাউন্সিলে না আসার পাশাপাশি যে আচরণ করেছিল, তা তাদের কাউন্সিলে যোগ দেওয়ার পথ কঠিন করে দিয়েছে।

বিএনপি অংশ না নিলেও দলটির ঘনিষ্ঠ দল বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যোগ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের বাইরে সিপিবি নেতা মনজুরুল আহসান খান ও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাসদ নেতা আ স ম আবদুর রব এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নাজমুল হুদা কাউন্সিলে যোগ দেন।

আওয়ামী লীগের দাওয়াত পেয়েছি, সিদ্ধান্ত ফোরামে : মির্জা ফখরুল

গত শুক্রবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সরকারি দলের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা খুশি হয়েছি, আমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন। আমরা আনন্দিত। আমাদের কাউন্সিলে আপনারা আসেন নাই। সৌজন্যবোধ দেখিয়ে টেলিফোন করে দুঃখ প্রকাশও করেন নাই।

“আমরা আপনাদের মতো হীনমন্য নই। বিএনপিকে আপনারা দাওয়াত জানিয়েছেন। আপনাদের কাউন্সিলে যাওয়ার জন্য বলেছেন। বিএনপি যে একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সেই প্রমাণ আপনারা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের দিন পাবেন ইনশাল্লাহ। আমরা যাব।”

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গত বৃহস্পতিবার দাওয়াত করেছে আওয়ামী লীগ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী বন্ধু দলের উদ্যোগে মরহুম নেতা আসম হান্নান শাহ স্মরণে আলোচনাসভায় অংশ নেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

আওয়ামী লীগের কাউন্সিল উপলক্ষে ‘ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে প্রশ্ন জাগে, এই কাউন্সিল কি র‌্যাব, পুলিশ বা বিজিবির কাউন্সিল? নাকি ডগ স্কোয়াডের কাউন্সিল!

“আমরা দেখছি, একমাস ধরে এমন একটা অবস্থা তৈরি করা হয়েছে, এমন একটা আবহাওয়া তৈরি করা হয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। রাস্তা-ঘাটে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তার মানে কী?

“মনে হচ্ছে, সরকারের একটি কাউন্সিল হচ্ছে। র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ তাতে সভাপতি হবেন। ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া হয়ত সাধারণ সম্পাদক হবেন- এমন একটা ভাব।”

আলাল বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি পুরনো রাজনৈতিক দল। এই দল এতো জনপ্রিয় একটি দল। এর কাউন্সিল থাকবে উন্মুক্ত। তা দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ আসবে। সেখানে চেকপোস্টের দরকার কী? সেখানে বেনজীর সাহেব ও আসাদুজ্জামান সাহেবের এতো তেজষ্ক্রিয় কণ্ঠে বারবার বক্তব্য দিয়ে আকাশে-বাতাশে হুমকি দেওয়ার প্রয়োজন কোথায়? কাদেরকে হুমকি দিচ্ছেন- সেটাও আমরা বুঝতে পারছি না।

“কাউন্সিল একটি উৎসব হলে, কেন বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেনো এতো বিধিনিষেধ? কী এমন আকাম-কুকাম করেছেন, কেন এত ভীত আপনারা। কারণ কী? ভালো কাজ করে থাকলে কাউন্সিল উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিৎ। সবকিছু।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের ‍উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে আলোকসজ্জা দেখে মনে হচ্ছে, ঢাকা শহরের বিয়ে।

“আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দল বলে নিজেকে দাবি করে। মুক্তিযুদ্ধের দল বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল হলে আমি দেখতে চাই, কাউন্সিলের মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের ১১ সেক্টরের কমান্ডার ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানির ছবি থাকবে।

“এই কাউন্সিলে আমি ঘোষণা শুনতে চাই- আগামী ৭ নভেম্বরে বিএনপি যেখানে সমাবেশ করতে চাইবে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চাইলে বিএনপি অফিসের সামনে চাইলে সেখানে সমাবেশ করতে পারবে।”

রাজনীতি-এর সর্বশেষ খবর