আজ সোমবার 11:40 am06 July 2020    ২১ আষাঢ় ১৪২৭    15 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

বিশেষ সাক্ষাৎকার : জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা

মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করি, আমরা এককভাবে ক্ষমতায় যাবো

হাসানুল কাদির, প্রধান সম্পাদক, টোটালবাংলাটুয়েন্টিফোরডটকম

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৬:২৪ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৯ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৬:২৬ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বিশেষ সাক্ষাৎকার : জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি

বিশেষ সাক্ষাৎকার : জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর রওশন এবং জিএম কাদেরের মধ্যে বিরোধের যে আলোচনা হচ্ছে, তা জটিলতা সৃষ্টি করবে না। পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জিএম কাদের এরশাদের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই চেয়ারম্যান হয়েছেন। সবাইকে তা মেনে নিতে হবে। এরশাদ মুসলিম জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করেছেন। আমরা তাঁর মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আগামী নির্বাচনে এককভাবে জাতীয় পার্টি অংশ নিবে। ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা আমাদের প্রচুর। তা কাজে লাগাতে এরশাদের মৃত্যুর চল্লিশ দিন পালনে দেশের ৬৪ জেলায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

 


বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই ২০১৯) দুপুরে বেইলি রোডে অবস্থিত নিজের বাসায় টোটালবাংলাটুয়েন্টিফোরডটকমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেন, বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগকে গালাগালি করতে গিয়ে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধকেই অস্বীকার করে বসে। বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে। আবার আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করতে গিয়ে, বিরোধিতা করতে গিয়ে নিজেদের ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেন। ইসলামি মূল্যবোধকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেন। এক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি ইসলামি চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল। আমরা ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছিলাম। ইসলামের সুরক্ষায় এরশাদ সাহেব কাজ করেছেন। জাতীয় পার্টি মুসলিম জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধকে ধারণ করে আগামীতে ক্ষমতায় যাবে।

 

 

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো। দলে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এরশাদ সাহেবের মৃত্যুর পর তাঁর কয়েকটি জানাজায় যেভাবে দেশের সকল স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে, তাতেই প্রমাণ হয়, তিনি কত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। প্রেসিডেন্ট এরশাদের প্রতি সাধারণ মানুষের অসাধারণ ভালোবাসার নজির আমরা দেখেছি। এরশাদ যমুনা বৃজ করেছেন। উপজেলা পদ্ধতি চালু করেছিলেন। ১৭টি জেলা থেকে দেশে ৬৪টি জেলা করেছিলেন। দেশ ও মানুষের কল্যাণে বহু যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সফল ও সুন্দরভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনেক স্বপ্নের বাস্তবায়নও করেছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে চিন্তায় কিছুটা তফাৎ ছিল। হুবুহু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নই তিনি দেখতেন না। তাঁর নিজের চিন্তা ও মূল্যবোধ ছিল। তিনি ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছিলেন। ইসলামের কল্যাণে বহু কাজ করার পাশাপাশি অন্য ধর্মের জন্যও তিনি ন্যায়সঙ্গত সেবা ও সহযোগিতা করেছেন।

 

 

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মুসলিম জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করতেন। তিনি মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করেছেন। আমরাও তাঁর দেখানো মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং আওয়ামী লীগ করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনীতি। এখানেই আমাদের রাজনৈতিক আদর্শের তফাৎ।

 


তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি করি। ৯ বছর জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতায় থাকতে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এরশাদের অসমাপ্ত উন্নয়ন কর্মকা- সমাপ্ত করতেই আমরা আবার ক্ষমতায় যেতে চাই।

 


জাতীয় পার্টি রংপুরের আঞ্চলিক দলÑএ অভিযোগ সত্য নয়। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতার এ অভিযোগ সত্য হলে একই অভিযোগ আওয়ামী লীগ বিএনপির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এরশাদ সাহেব ঢাকায় ইলেকশন করেও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। দেশের এমন কোনো এলাকা নেই, যেখানে লাঙ্গলের ভোট মিলে না। হতে পারে, সেই ভোটের পরিমাণ বিএনপি-আওয়ামী লীগের তুলনায় কম। সারাদেশেই জাতীয় পার্টি আছে। লাঙ্গলের ভোট আছে।

 


জনাব রাঙ্গা বলেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। আমরা কোনো জোটে যাবো না। এককভাবে ক্ষমতায় যেতেই আমরা এখন থেকে প্রস্তুত হচ্ছি। এরশাদ সাহেবের মৃত্যুতে আমরা এখনো শোক পালন করছি। তাঁর মৃত্যুর চল্লিশ দিন পালনের কর্মসূচি হিসেবে দেশের ৬৪ জেলায় দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করা হবে। কোনো জেলাই এ কর্মসূচি থেকে বাদ যাবে না।

 


সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নমিনেশনে ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রার্থী থাকবেন। ব্যবসায়ীদের নমিনেশন দিতে হবে, কারণ, দল চালাতে অর্থের প্রয়োজন। সেটা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে আসে। তাদের নমিনেশন দেওয়া হবে। ৩০০ আসন থেকে ১০০ জন ব্যবসায়ীকে নমিনেশন দেওয়া হতে পারে। দলের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং ত্যাগী বহু নেতা আছেন, যাদের ফিন্যানশিয়াল অবস্থা ভালো নয়, তাদেরও নমিনেশন দেওয়া হবে। নির্বাচনে তাদের কিছু সহযোগিতাও করা হবে।

 


জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটে নির্বাচন করেছি, সে হিসেবে আওয়ামী লীগকেই আমাদের রাজনৈতিক মিত্র বলতে হয়। তবে, তাদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির বন্ধুত্বটা এখন টানাপড়েনে আছে। আমরা এখন বিরোধী দলে আছি। বিরোধী দলের রাজনীতি করি। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা যেভাবে দুর্নীতিতে জড়াচ্ছেন, যেভাবে মাদকসহ নানাবিধ মন্দকর্মে জড়িয়ে আছেন, তাতে করে দিন দিন সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন কমছে। এ অবস্থায় জাতীয় পার্টির সম্ভাবনা প্রচুর। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। জিএম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় যাবে। এরশাদ সাহেবের প্রতি সাধারণ মানুষের একটি নেতিবাচক ধারণা ছিল, তিনি সকাল-বিকাল কথা পাল্টান। এর কারণগুলোও বোদ্ধা মহল জানেন। অন্যায় মামলায় তাঁকে এমনভাবে ফাঁসিয়ে রাখা হয়েছিল, যেকোনো মুহূর্তে চাইলেই তাঁকে মৃত্যুদ- দেওয়া যেতো। বুড়ো বয়সে জেল-জুলুমকে সঙ্গত কারণেই তিনি এড়িয়ে চলতে চাইতেন। সেই শৃঙ্খল এখন আর জাতীয় পার্টিতে নেই। জিএম কাদের দলের চেয়ারম্যান। তাঁর সুনাম ও স্বচ্ছতা সর্বমহলেই আছে। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাবে।

 


মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, রওশন এবং জিএম কাদেরের মধ্যে বিরোধ নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তা দলে জটিলতা সৃষ্টি করবে না। এরশাদ সাহেব নিজেই তাঁর ছোট ভাই জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে গেছেন। দলের গঠনতন্ত্র অনযায়ী অন্য যা কিছুই থাকুক, জিএম কাদেরই চেয়ারম্যান। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নিয়মমাফিক চেয়ারম্যান হয়েছেন। এরপরও কয়েকদিন অপেক্ষা করে পরে জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে জটিলতা তৈরির কোনো সুযোগ নেই।

 


বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, সংসদে এবং সংসদের বাইরে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন জনাব রাঙ্গা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তাঁর আশপাশের লোকেরা অনেক অন্যায় ও দুর্নীতি করছেন। নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। সরকার টিকে আছে মূলত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কৃতিত্বের কারণে।

 

 

রাজনীতি-এর সর্বশেষ খবর