আজ বুধবার 12:53 am20 September 2017    ৪ আশ্বিন ১৪২৪    27 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

আমেরিকায় ইসলামবিদ্বেষ, দূর করার উদ্যোগ বাংলাদেশি নওমুসলিমের

সাদেকা হাসান, জয়েন্ট এডিটর

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:৪৭ এএম, ৩০ অক্টোবর ২০১৬ রবিবার | আপডেট: ০৬:২৬ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৬ শনিবার

আমেরিকায় ইসলামবিদ্বেষ, দূর করার উদ্যোগ বাংলাদেশি নওমুসলিমের

আমেরিকায় ইসলামবিদ্বেষ, দূর করার উদ্যোগ বাংলাদেশি নওমুসলিমের

আমেরিকায় ইসলামবিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছে। দিন দিন তা বাড়ছে। এই বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নওমুসলিমকে। ফলে তিনি নিজেই উদ্যোগ নিয়েছেন, ইসলামকে পজেটিভ দৃষ্টেকোণ থেকে আমেরিকানদের মধ্যে তুলে ধরবেন। এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বাজফিড নিউজ । চুম্বক অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

কেট ডাউনিং খালেদ। বয়স তার ৩৩। একজন শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান নারী। একটি খৃস্টান মেথডিস্ট পরিবারে তার জন্ম। অনেক বছরের কৌতূহল এবং অধ্যয়নের পর ২৫ বছর বয়সে তিনি ইসলাম কবুল করেন। ওই সময় তিনি তার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্বামী তাকির সাক্ষাৎ পান। তার স্বামী একজন গ্র্যাজুয়েট।


খালেদ বড় হয়েছেন কানাডায়। তার পিতা আমেরিকান। মা একজন কানাডীয় আমেরিকান। তিনি জানান, তার বাবার পরিবারের মূল শিকড় আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এডামসের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসাবে আমেরিকায় সম্প্রতি ইসলামবিরোধী মুসলিম অনুভূতি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন।

খালেদ জানান, ৩ শিশুসন্তানকে নিয়ে তিনি আমেরিকার মিনেসোটায় বাস করছেন। মুসলিম হতে পেরে তিনি নিজেকে নিয়ে গর্বিত বলেও দাবি করেন।

খালেদ বলেন, তার দেশে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ বাড়তে থাকায় অনেকের মতো তিনিও খুবই উদ্বিগ্ন। তার চিন্তার সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এই ঘৃণ্য বিদ্বেষের কারণে তার সন্তানরা প্রভাবিত হতে পারে।

এ কারণে খালেদ সিদ্ধান্ত নেন, বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করবেন। তার সহকর্মী আমেরিকানরা তার ধর্মকে কীভাবে ভয়ানকভাবে ঘৃণা করছেন, সে সম্পর্কে কড়া বার্তা লেখেন তিনি।

ফেসবুকে তার লেখা একটি পোস্টের কিছু অংশ তুলে ধরা হল। তিনি লিখেন, ‘আমি ‘আমাদের’ এবং ‘তাদের’ (মুসলিম) নিয়ে একসঙ্গে জীবনযাত্রার একটি বাস্তব নজির। অবশ্য আমার পরিচয়ের এই ব্যক্তিগত অংশটি শেয়ার করা উচিত নয়। আমি নিশ্চিত নই, অন্য কী করা যেতে পারে। আমার মতো আমেরিকান মুসলিমদের জন্য আপনাদের সাহায্য ও সমর্থনের প্রয়োজন অনুভব করছি। আমি এটাকে ‘আমাদের’ মতোই দেখি। সত্যিকার অর্থে আপনাদের এটা বোঝানোর প্রয়োজন অনুভব করছি, আপনারা তাদের (মুসলিমদের) যেভাবে দেখছেন, প্রকৃতপক্ষে তারা তেমন নয়। তারা প্রকৃতপক্ষে একটি সুন্দর অংশ, যা আমাদের মহান করে তুলেছে।’

তার বার্তা অল্প সময়েই ফেসবুক দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার শেয়ার হয়। অনেকে তাকে সমর্থন করে রিপ্লাই দিয়েছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘তাদের বিশ্বাস সম্পর্কে তার পরিবারকে ভিন্নভাবে দেখা উচিত নয়।’

খালেদ বলেন, তিনি সবধরনের মানুষের কাছ থেকে পজেটিভ সাড়া পেয়েছেন। তিনি আশা করেন, শান্তির বার্তা হিসেবে এটি সবাই গ্রহণ করবে।

খালেদ জানান,  ইসলামের যে জিনিসটি তাকে বেশি আকর্ষণ করেছে, তা হলো,  মুসলমানদের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়। লিখেছেন, ‘আমি আরো ধ্যানমগ্ন ধর্মানুশীলন খুঁজছিলাম। ইসলামে সেটি খুঁজে পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘তার স্বামীর জন্ম আমেরিকায়। বাবা-মা বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়েছেন। এতে তাদের পরিবারের মধ্যে এক আশ্চর্যজনক অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ ঘটেছে। আমার আমেরিকান বাবা-মা এবং আমার শ্বশুর-শাশুড়ি এই সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।’

ইসলামবিরোধীদের বাগাড়ম্বরপূর্ণ উক্তির কারণে তিনি তার সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। এজন্য তিনি সন্তানদের বন্ধুদের কাছ থেকে দূরে রাখতে চান এই ভেবে, তাদের (সন্তানেরা) বন্ধুরা কিংবা বন্ধুদের পরিবার সন্তানদের ভালভাবে গ্রহণ না-ও করতে পারে। তিনি বলেন, ‘তারা বন্ধুদের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হলে এটা আমার হৃদয়কে ভেঙে চুরমার করে দেবে।’

খালেদ জানান, তার ধর্মের ইতিবাচক দিকগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য তিনি অনলাইনে লেখালেখির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবলাম, আমার হাইস্কুল জীবনে যেসব বন্ধু মুসলমানদের নিয়ে ভয় পেত, এ বিষয়ে লিখে অন্তত তাদের ভয় কিছুটা হলেও দূর করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘মানুষকে এটা বুঝতে হবে, আমেরিকার বৈচিত্রের মতো ইসলামও একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ধর্ম। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আমেরিকাকে আরো সুন্দর করবে, যাতে আমরা সবাই একসঙ্গে শান্তিতে ধর্ম চর্চা ও পালন করতে পারি। একসঙ্গে বসবাস করতে পারি।’