আজ বুধবার 12:47 am20 September 2017    ৪ আশ্বিন ১৪২৪    27 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

আজমির শরিফে শান্তি সম্মেলন, যোগ দিলেন মাহমুদ মাদানিও

তানজিল আমির

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৪:৪৩ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০১:৪৩ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৬ রবিবার

জমিয়তপ্রধান মাওলানা মাহমুদ মাদানিকে আজমিরের লাল পাগড়ি পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে

জমিয়তপ্রধান মাওলানা মাহমুদ মাদানিকে আজমিরের লাল পাগড়ি পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে

ইনডিয়ার আজমির শরিফে দুইদিনের জমজমাট শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জমিয়ত নেতা মাওলানা সাইয়েদ মাহমুদ মাদানিও যোগ দিয়েছেন। সঙ্গে শরিক ছিলেন আজমির শরিফের দ্বায়িত্বশীলগণ ছাড়াও বেরেলভি, হিন্দু, শিখসহ বিভিন্ন ধর্ম ও মতাবলম্বী নেতাগণও। টোটালবাংলা২৪ ডটকম-এ পাঠানো এক প্রেস রিলিজে দাবি করা হয়, এই সম্মেলনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন জমিয়ত নেতা মাওলানা মাহমুদ মাদানি। বাংলাদেশ থেকে গিয়েছেন তাদেরই মতাদর্শের মাওলানা ফরীদউদ্দীন মাসঊদ।

 

প্রেস রিলিজে জানানো হয়, বিশ্ব মানবতার শান্তি ও মুক্তির মহান প্রেরণা নিয়ে আজমিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ব শান্তি সম্মেলন। ইনডিয়ান মুসলমানদের অরাজনৈতিক বৃহৎ প্লাটফর্ম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের উদ্যোগ ও আজমির দরবার শরিফের সহায়তায় গত ১২ ও ১৩ নভেম্বর এ শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ইনডিয়াজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হলেও সম্মেলনটি বিশ্বজুড়েই অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো। ফেসবুক, টুইটার ছাড়াও ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচার হয় অনুষ্ঠানটি।

খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (র.)-এর দরবারকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যে বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে, এ সম্মেলনের মাধ্যমে দেওবন্দি ধারার আলেমদের সঙ্গে তাদের একটি সুসম্পর্ক ও  ঐক্যের ভিত স্থাপন হলো। সর্বভারতীয় মুসলমানদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি সাড়া জাগিয়েছে বিশ্বজুড়ে। জমিয়ত ও আজমির শরিফের দ্বায়িত্বশীলগণ ছাড়াও মঞ্চে বেরেলভি, হিন্দু, শিখসহ ভিন্ন ধর্ম ও মতাবলম্বী নেতাগণের উপস্থিতিতে সম্মেলনটি এক ভিন্নরূপ ধারণ করে বলে সম্মেলনের আয়োজকরা দাবি করেছেন।

আজকের বিশ্বপরিস্থিতিতে এমন ঐতিহাসিক উদ্যোগ ব্যাপক দূরদর্শিতা ও উদার মানসিকতারই প্রমাণ বহন করে। যে মানুষটির আপ্রাণ চেষ্টায় এ বিশাল আয়োজন ও কর্মযজ্ঞ, তিনি মাওলানা সাইয়েদ মাহমুদ মাদানি। বৃটিশবিরোধী সংগ্রামের প্রাণপুরুষ সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানির তিনি দৌহিত্র। ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়েদ আসআদ মাদানির সন্তান।

আজমিরের শান্তি সম্মেলনে জমিয়ত নেতৃবৃন্দ ও দেওবন্দি আলেমগণ পৌঁছালে দরবারের বর্তমান গদিনশীন ও প্রধান খাদেম সাইয়েদ মঈন সরদার চিশতী, মাজার সেক্রেটারি ওয়াহিদ হুসাইন চিশতী, আন্জুমানের গদিনশীন পীর আরিফ হুসাইন চিশতী তাঁদের স্বাগত জানান। এ সময় তারা জমিয়ত নেতাদের আজমির শরিফের ঐতিহ্যবাহী লাল পাগড়ি পড়িয়ে ব্যতিক্রমধর্মী অভ্যর্থনা জানান। জমিয়ত নেতাগণ তাদের নিয়ে হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (র.)-এর কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে জমিয়ত নেতারা মাজার কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য মতাদর্শের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বেরেলভি, রায়লভি ও বদরপুরিসহ অন্যান্য মতাদর্শের দায়িত্বশীলদের এ সময় জমিয়ত নেতারা বলেন, আমরা সকলে মুসলিম। আমরা ভাই ভাই। মতের ভিন্নতা থাকতে পারে। আমরা কেউ কারো শত্রু নই। পরস্পর হিংসা-হানাহানি ভুলে সকলে মিলে  কাজ করলে খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (র.) যে মিশনের দাওয়াত দিয়েছিলেন, তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। এ সময় আজমিরের পীর আরিফ হুসাইন চিশতী আবেগাপ্লুত হয়ে উর্দুতে বলেন, এ ঐক্য প্রক্রিয়া শুধু সাম্প্রদায়িক একতা নয়, বরং আল্লাহর বিশেষ রহমত।

সম্মেলন শুরু হয় ১২ নভেম্বর দুপুরে। আজমির দরবার শরিফের ভিতরে অত্যাধুনিক সুবিশাল প্যান্ডেলে প্রথম দিনের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পুরো সম্মেলনজুড়ে ছিলো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। সুসজ্জিত স্টেজ ও ডিজিটাল প্রজেক্টরের বিশাল বাহার নজর কেড়েছে সকলের।

এদিন  জমিয়তের বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করা হয়। শুধু ইনডিয়ান নেতারাই সেখানে ভাষণ দেন। এছাড়া শান্তি স্মারকসহ দুটি সম্প্রীতি স্মারকের মোড়কও খোলা হয়।

১৩ নভেম্বর আজমির দরবার শরিফের বাইরের খোলা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বশান্তি সম্মেলনের সমাপনী ও মূল অধিবেশন। এতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি দাবি করেছেন আয়োজকরা। জমিয়ত সভাপতি কারি সাইয়েদ উসমান মানসুরপুরী, কলকাতা জমিয়ত সভাপতি ও মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকউল্লাহ, দেওবন্দের মজলিসে শুরার রুকন রহমতউল্লাহ কাশমিরি, ইনডিয়ার সেন্ট্রাল শরিয়া কাউন্সিলের সেক্রেটারি মাওলানা মাজউদ্দিন আহমদ, দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস সালমান বিজনূরীসহ প্রত্যেক প্রদেশের সভাপতি বক্তব্য রাখেন। এ অধিবেশনে জমিয়ত সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদ মাদানি বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের প্রস্তাবনা পাঠ করেন। বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও দেশ থেকে আগত অতিথিরা এ সময় বক্তব্য দেন।

আজমির শরিফের প্রধান খাজা আরিফ হুসাইন চিশতি, বেরেলভি প্রধান তাওকীর রেজাখা, হিন্দু ধর্মীয় গুরু চখস্পতি পন্ডিত, স্বামী গুরু মহারাজ ঠাকুর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সকলের বক্তব্যে পারস্পরিক সম্প্রীতির বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে আসে। সম্মেলনে মোট আটটি  প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। পরধর্ম ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া ছাড়াও সামাজিক শৃঙ্খলার প্রতিও বেশ জোর দেওয়া হয়।

সম্মেলনে ২০১৭ সালের ভিতর ইনিডয়াকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়। বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ১২০জন ইসলামিক স্কলার ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

আজমির শরিফে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলন অশান্ত পৃথিবীকে শান্তির পথ দেখাবে বলে আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন।-প্রেস রিলিজ