আজ বৃহস্পতিবার 6:56 am09 July 2020    ২৪ আষাঢ় ১৪২৭    18 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে কী চমক থাকছে? জেনে নিন

সালমান ফিদা, সিনিয়র প্রতিবেদক

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০২:০৯ এএম, ২২ অক্টোবর ২০১৬ শনিবার | আপডেট: ০২:২৮ এএম, ২২ অক্টোবর ২০১৬ শনিবার

আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে কী চমক থাকছে? জেনে নিন

আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে কী চমক থাকছে? জেনে নিন

আওয়ামী লীগের কাউন্সিল নিয়ে দলের তরুণ সদস্যরা ব্যাপক উজ্জীবিত। আগামী দিনের দায়িত্ব আসতে পারে- এমন আশায় বুক বেঁধেছেন তারা। তাদের আশা, দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদে একটি পদ পাওয়া। বিশেষ করে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন কমিটিতে তরুণদের প্রাধান্য দেবেন- এমন ইঙ্গিত পেয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন তরুণরা। প্রধানমন্ত্রীর ওই ইঙ্গিতে পদ হারানোর ভয় ঢুকেছে অনেক জ্যেষ্ঠ নেতার মধ্যে। সব জল্পনা-কল্পনার শেষ হবে কালকের মধ্যেই। কারণ, আজ শুরু হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল।

জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারও নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে সেন্ট্রাল কমিটি হবে। এমন ধারণা ছিল নেতাদের। সেই হিসাব করে বর্তমান কমিটির নেতাদের কেউ পদ ধরে রাখার, কেউ পদোন্নতির আশায় ছিলেন। গত ১৫ অক্টোবর জাতীয় কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনার একটি মন্তব্যের পর সেই হিসাব পাল্টে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই বৈঠকে কয়েক নেতাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা এত তরুণ বয়সে নেতা হয়েছেন। এবার তরুণরাই নেতা হোক, কী বলেন? তাছাড়া এখনই তো চারা গাছ রোপনের সময়।’

শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যে দলের অনেক প্রবীণ নেতা হতাশ হয়েছেন। পদোন্নতি দূরের কথা, বর্তমান পদ হারানোর ভয় ঢুকেছে তাদের মধ্যে। শেখ হাসিনার এই বার্তায় আবার তরুণদের মধ্যে উৎসাহ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতা, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, সহ-সম্পাদকদের ভেতরে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তরুণদের আনাগোনা অনেক বেড়েছে। কাউন্সিলের কাজেও সক্রিয়তা বাড়ছে তাদের।

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও তাজউদ্দিন আহমেদের ছেলে তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ সেন্ট্রাল কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন, এমন খবরে তরুণদের উৎসাহ আরও বেড়েছে। তারা মনে করছেন, এই দু’জন পদ পেলে কাজ করার জন্য তারা তরুণদেরই বেছে নেবেন।

দৌড়ঝাঁপ করলেও পদ প্রত্যাশী তরুণরা মিডিয়ায় কথা বলতে রাজি নন। নেতৃত্ব পাওয়ার আগে কথা বললে সেটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্তমান উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক এক সভাপতি বলেন, ‘দলীয় সভাপতি তরুণ নেতৃত্ব চান, এমনটা আমরা জেনেছি। তরুণদের নেতৃত্ব দিলে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা প্রাধান্য পাবেন বলে আমরা মনে করি।’

নতুন কমিটিতে তরুণ নেতৃত্ব প্রাধান্য পাবে, এমন ইঙ্গিত দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘কাউন্সিলের মাধ্যমে আগামী দিনের জন্য আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ও দক্ষ নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা তরুণ নেতৃত্বকেই ‍গুরুত্ব দিতে চাই। কারণ, তরুণরা চিন্তা ও চেতনায় দৃঢ়। তরুণ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে নতুন সংকল্প নিয়ে দল এগিয়ে যাবে, এটাই আমরা চাই।’

দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলের  দুই দিনব্যাপী আয়োজন আজ (শনিবার) শুরু হচ্ছে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার/ এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’ এই স্লোগান ধারণ করে আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটির এবারের কাউন্সিল। কাউন্সিলকে ঘিরে সারাদেশে দলের নেতাকর্মী ছাড়াও উৎসুক মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীসহ গোটা দেশে দেখা যাচ্ছে উৎসবের আমেজ।

 

 hasanulkadir



এবারের কাউন্সিলে চমক থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কী চমক থাকছে, তিনি সেটা খোলাসা করে বলেননি। শুক্রবার রাতে হোটেল সোনারগাঁওয়ে কাউন্সিলে যোগ দিতে আসা বিদেশি অতিথিদের নৈশভোজে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আগামীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কারা আসবে, তা আমি আর নেত্রী ছাড়া কেউ জানে না। নতুন চমকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’ উৎসবমুখর পরিবেশে কাউন্সিল হবে বলেও তিনি জানান।

কাউন্সিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, কাউন্সিলের দিন সকাল দশটায় জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর বেলুন এবং কবুতর ওড়ানোর পর মঞ্চে দলীয় সভাপতি আসন গ্রহণ করবেন। এরপর  দলীয় সংগীত-দেশাত্মবোধক সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর শোক প্রস্তাব ও এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে সভাপতির উদ্বোধনী ভাষণ। সভাপতির ভাষণের পর সাধারণ সম্পাদকের সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ। শেষে আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিদের ভাষণ। এরপর মধ্যাহ্নভোজের বিরতি।

বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে প্রত্যেক জেলা থেকে একজন করে কাউন্সিলর বক্তব্য রাখবেন। বক্তব্য চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম দিনের অনুষ্ঠান।

দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হবে আগামীকাল রবিবার। প্রথমদিনের পর বাকি থাকা সাংগঠনিক জেলার কাউন্সিলরদের বক্তব্য দিয়ে শুরু হবে। এরপর মধ্যাহ্ন বিরতি শেষে শুরু হবে কাউন্সিল অধিবেশন। এ অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সারা দেশের কাউন্সিলররা তাদের মতামতের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করবেন। সাধারণত কাউন্সিল অধিবেশনে দলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন কাউন্সিলররা। এবারের কাউন্সিলেও সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনর্নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। পুনর্নির্বাচিত হলে এ টার্ম নিয়ে তিনি আট বারের মতো সভাপতি হবেন। শেখ হাসিনা টানা ৩৫ বছর ধরে দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সভাপতির পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। সেক্ষেত্রে টানা দুবারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, কেউ জানে না। এখানেই চমক অপেক্ষা করছে। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের। সৈয়দ আশরাফ কি তাহলে এলজিআরডিমন্ত্রী বদলে জনপ্রশাসনমন্ত্রণালয়ের মতো দলীয় ক্ষেত্রেও তেমন কোনো পদে পুনর্বাসিত হবেন?

রাজনীতি-এর সর্বশেষ খবর